place বাংলাদেশ সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
কর্মের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন চিরকালঃ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি ফেঞ্চুগঞ্জে জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন এ ম্যান অফ অ্যাকশন : এ লাইফ অফ লিডারশিপ, সার্ভিস অ্যান্ড কমিউনিটি শীর্ষক কুলাউড়ায় শিক্ষক-প্রাক্তন ছাত্রীর ঘটনা নিয়ে মহতোছিন আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সংবাদ সম্মেলন ফ্যাসিবাদী শক্তি আর মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারবে না : এম এ মালেক এমপি ফেঞ্চুগঞ্জের পুলিশের বিশেষ মহড়া, ঈদে শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চেকপোস্ট অব্যাহত ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নুরুল হোসেন খোকন ফেঞ্চুগঞ্জে পূজা উদযাপন পরিষদ এর কমিটি গঠন পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা রিকশা (মিশুক) শ্রমিক ইউনিয়ন পবিত্র ঈদ বয়ে আনুক অনাবিল সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি : মাওলানা হারুনুর রশীদ এসোসিয়েশন অব ইসলামিক টিচার্স ইউকের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও নির্বাচন ২০২৬ইং সম্পন্ন পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী যুবলীগ নেতা ফয়ছল আহমদ পবিত্র ঈদ বয়ে আনুক অনাবিল সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি : মাওলানা হারুনুর রশীদ পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. আমিনুল হক সিলেটবাসীকে ঈদুল আযহা’র শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নাজমুল ইসলাম

কর্মের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন চিরকালঃ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি

শাওন দাস
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
  • ৫১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কর্মের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন চিরকালঃ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি

 

মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি কতটুকু জনপ্রিয় ও মানুষের মনে কতটুকু স্থান করে নিয়েছিলেন
তার মৃত্যুর পর তা উপলব্ধি করতে পেরেচে
সিলেট ৩ ( দক্ষিণ সুরমা ফেনী বালাগঞ্জের) মানুষ । তিনি তার কর্মের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি জনগণের পাশে থাকতে খুব ভালবাসতেন, তাই তিনি সব ব্যস্ততা ফেলে সপ্তাহে দু তিনদিন ছুটে আসতেন নিজ এলাকায়। করোনা মহামারির সময়েও তিনি ঘরে বসে থাকেননি। যে জনগনকে তিনি ভালবাসতেন তাদের পাশে থেকে সাহস যুগিয়েছেন। নিজে প্রতিটি এলাকায় গিয়ে সরকারের পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন।

মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি একজন সাহসী এবং কর্মীবান্ধব নেতা ছিলেন। তিনি সিলেট-৩ আসনকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিণত করতে দীর্ঘ ৩৬ বছর দক্ষিণ সুরমা ও ফেঞ্চুগঞ্জের প্রতিটি এলাকায় কাজ করে জনগণের সমর্থন আদায় করেছেন। ২০০৮ সালে বালাগঞ্জ উপজেলার একাংশ সিলেট-৩ আসনের সাথে এক হওয়ার পরে আওয়ামী লীগের আরও শক্তি বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘ পরিশ্রমের ফলে ২০০৮ সালে প্রথম বারের মত সিলেট-৩ আসনে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হয়ে তিনি সিলেট-৩ আসনকে স্বপ্নের মত সাজানোর জন্য প্রতিটি জনপদে কাজ করেন এবং সিলেট-৩ আসনকে একটি মডেল আসনে রুপান্তরিত করেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে পুরো বালাগঞ্জ সিলেট-৩ আসনের সাথে সম্পৃক্ত হয়। তিনি উন্নয়নের ক্ষেত্রে বালাগঞ্জ উপজেলাকে প্রাধান্য দিয়ে তার পরিকল্পনা সাজান। সর্বপ্রথম তিনি কুশিয়ারা নদী ভাঙ্গন রোধে মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন, দাবি করেন বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করে কুশিয়ারা নদী ভাঙ্গন রোধে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার । এই দাবির প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞ প্যানেল নদীর ভাঙ্গন রোধে মেগা প্রকল্প হাতে নেয়। বালাগঞ্জবাসীর আরেক স্বপ্ন কুশিয়ারা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য তিনি মহান জাতীয় সংসদে সীদ্ধান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। মাননীয় সেতু মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের এমপি কুশিয়ারা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলায় মাননীয় স্পিকারের অনুরোধে সীদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহার করেন। এখন কোন অদৃশ্য কারণে বালাগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর উপর ব্রিজের কাজের কোন অগ্রগতি আমরা দেখতে পারছিনা তা আমাদের জানা নেই। বালাগঞ্জ নদী বন্দর নির্মানের জন্য গ্যাজেট প্রকাশ করা হয়েছে। বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক হাসপাতালের নির্মাণ কাজ চলছে। বালাগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাজ এগিয়ে চলছে। বালাগঞ্জ পৌলনপুর রাস্তা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির কারনে অনেক দিন কাজ বন্ধ ছিল। সেই রাস্তার কাজ শুরুর জন্য তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। চন্ডিপুল-বালাগঞ্জ ২৫ কিঃ মিঃ রাস্তা ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ প্রায় শেষ। কিছু জায়গায় কাজ বন্ধ রয়েছে তদারকির অভাবে। বড়ভাগা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন এবং অসংখ্য স্কুল কলেজের ভবন এমপিও ভূক্তি অসংখ্য ব্রিজ কালভার্ট ও রাস্তা উন্নয়ন করেছেন এবং বালাগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করেছেন।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলাকে সিলেটের প্রান কেন্দ্রে রুপান্তরিত করার জন্য ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার প্রতিটি পাড়া মহল্লার রাস্তাঘাটের উন্নয়নের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহন করেন। পরিকল্পনা মাফিক তিনি তার উন্নয়ন করে দক্ষিণ সুরমা উপজেলাকে সিলেট শহরের সাথে তাল মিলিয়ে যাতে চলতে পারে সে ব্যবস্থা করেন। রাস্তাঘাটের কিভাবে উন্নয়ন করতে হয় সেটি তিনি তার প্রথম মেয়াদের পাঁচ বছরে দেখিয়ে দিয়েছেন। তার প্রথম প্রায়োরিটি ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তার উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। এমপিওভূক্ত করেছেন প্রায় ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু দক্ষিণ সুরমা উপজেলায়। দক্ষিণ সুরমা কলেজ ও রেবতীরমণ স্কুলকে সরকারিকরণ। দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় সিলেটের প্রায় সব সরকারি দপ্তর নির্মাণ করা হয়, ফলে দক্ষিণ সুরমা সিলেটের প্রাণ কেন্দ্রে রুপান্তরিত হয়। দক্ষিণ সুরমা উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সুদৃষ্টি থাকার কারণে দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় প্রথম দশটি উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মধ্যে একটি ছিল দক্ষিণ সুরমা উপজেলায়, বর্তমানে দুইশত বিশ কোটি টাকা ব্যয়ে কুচাই ইউনিয়নে শেখ রাসেল টেক্সটাইল কলেজ ও টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট এর কাজ শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে সিলেট শহরের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার প্রতিটি জনপদ।

২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ এনজিএফএফ এর স্থলে শাহজালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরী নতুন সারকারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা নেন। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময় এনজিএফএফ বন্ধ করার যে ষড়যন্ত্র করেছিল সেটি তার নেতৃত্বে তৎকালীন সরকার সীদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল। নতুন সারকারখানা নির্মাণের যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন সেটি বাস্তবায়নের জন্য প্রথমে তিনি উদ্যোগ নেন এবং ২০১২ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সেটি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৬ সালে ১৭হাজার মেঃ টন সম্পন্ন নতুন সারকারখানা উৎপাদন শুরু করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রধানমন্ত্রী সেটি উদ্বোধন করেন। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আবার ফিরে পায় তার ঐতিহ্য। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলাকে তিনি উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসেন রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজের ভবন নির্মাণ ও স্কুল কলেজকে সরকারিকরণ করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলাকে উন্নয়নের রুল মডেলে পরিনত করেন। তিনি তার স্বপ্নের সিলেট-৩ আসনে পরিনত করার পথে একে একে এগিয়ে চলেন শেখ রাসেল শিশু পার্ক নির্মাণ, বয়স্কদের জন্য ‘প্রবীনাঙ্গণ” ও প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র নির্মাণ করার কাজ শুরু করেন তার মৃত্যুর পর সেটি থেমে যায়। হাকালুকি হাওরকে পর্যটন স্পট হিসেবে তিনি পরিচিত করার জন্য অনেক কাজ করেছেন এবং সফল হয়েছেন। তিনি নিজস্ব অর্থায়নে

২০২১ সালের ১১মার্চ সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনের প্রিয় মানুষ তাদের ভালবাসার ঠিকানা তাদের প্রিয় লিডার ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমান। এভাবে আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাবেন আমরা কখনও চিন্তা করিনি। ১২ মার্চ ২০২১ ইং শুক্রবার তার বেড়ে উঠা অনেক স্মৃতিময় স্থান এনজিএফএফ মাঠে নিথর দেহ হেলিকপ্টার নিয়ে আসে, সে অন্য রকম পরিবেশ কান্নার রোল আকাশ বাতাস ভারি ছিল সেদিন। মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে হারিয়ে দুঃখ ভারাক্রান্ত। সেদিন বিকেল ৫ ঘটিকার সময় কাসিম আলী সরকারী স্কুল মাঠে লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণে জানাযার নামাজের পর নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী তার বাবার নামে নির্মিত দেলওয়ার হোসেন চৌধুরী জামে মসজিদের পাশে আমি, জুনেদ চৌধুরী ভাই ও আব্দুল আওয়াল কয়েস ভাই নিজ হাতে কবরে শুয়ে দিয়ে চির বিদায় দিয়ে আসি। এ বিদায় অনেক কষ্টের, প্রিয় মানুষের চির বিদায় হৃদয়ের শুন্যতা পূরণ করা যায়না। মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী আমাদের জন্য কি অমূল্য ধন ছিলেন তা আজ বুঝতে পারছি প্রতিটি মূহুর্তে।

মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি তার কর্মের মাধ্যমে সিলেট বাসির মাঝে বেঁচে থাকবেন চিরকাল।

 

লেখক- পরিচয় দিতে অনিচ্ছুক

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
পুরাতন খবর
© এই ওয়েভসাইটের কোন লেখা বা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোন ওয়েভসাইটে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-2281