রংপুরের মিঠাপুকুরে পৃথক দুই এলাকায় দুজন ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়ন থেকে আব্দুল কাদের শেখ (৫০) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একইদিন বিকেলে উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন আরিফা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূ। উভয় ঘটনায় দুটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পায়রাবন্দের বিরাহিমপুর গ্রামের আব্দুল কাদের শেখ (৫০) প্রতিদিনের মতো তার নিজ শয়ন ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। বুধবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে তাকে ডাকতে যায় ছেলে বাঁধন ইসলাম (১৩)। কিন্তু এ সময় ঘরের তীরের সঙ্গে বাবার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করে বাঁধন। পরে প্রতিবেশীরা এসে খবর দেন মিঠাপুকুর থানা পুলিশকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ।
এদিকে নিহতের পরিবারের দাবি, কাদের শেখ মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। গত রমজান মাসেও একবার বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
একইদিন বিকেলে খবর পাওয়া যায়, উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামে আরিফা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূ ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, নিহত আরিফা বেগমের প্রায় ৮ বছর আগে একই উপজেলার এক লোকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। পরে উভয়ের মাঝে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর আরিফা ঢাকায় চলে যান। সেখানে আরেকজনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন আরিফা। বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকার ওই স্বামীর সঙ্গেও মনোমালিন্য চলছিল তার। স্বামীর অবহেলা থেকেই অভিমানে আরিফা আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা তার পরিচিতদের। তবে, নিহত আরিফা বেগমের পরিবারের কোন আপত্তি না থাকায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনা দুটির সত্যতা নিশ্চিত করে মিঠাপুকুর থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, দুটি ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। আব্দুল কাদের শেখের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আরিফার পরিবারের কোন আপত্তি না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়নি।



