মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কুলাউড়া সার্কেল ও কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ আব্দুছ ছালেক সাহেব এর নেতৃত্বে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে কুলাউড়ায় এক গৃহবধূ নির্যাতনের ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যেই নির্যাতিত গৃহবধূর শ^শুর শফিক মিয়া (৬৩) ও ভিকটিমের স্বামী আব্দুস সালাম (৩২) কে গ্রেফতার করা হইয়াছে।
গত ১৭ এপ্রিল ২০২৩ খ্রিঃ তারিখে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা এবং সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, কুলাউড়া থানাধীন ১২নং পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে গৃহবধুর শ্বশুর মোঃ শফিক মিয়া (৬৩) তার পুত্রবধুকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে মারধর করতে করতে টানা হেচড়া করে একটি বাড়ির উঠান থেকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে।
পরবর্তীতে ১৮ এপ্রিল ২০২৩ খ্রিঃ তারিখে ভিকটিমের বড় ভাই বাবুল মিয়া এই ঘটনায় কুলাউড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে তিনি জানান, গত প্রায় ০৪ (চার) বছর আগে ভিকটিম রুজিনা বেগম-কে সুলতানপুর গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে আব্দুস সালামের নিকট বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পর থেকেই ভিকটিমের স্বামী আব্দুস সালাম যৌতুকের জন্য ভিকটিমকে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করতে থাকে। ভিকটিমের পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ার কারণে যৌতুকের দাবী পূরণ করতে পারেনি।
গত ১৬ এপ্রিল ২০২৩খ্রিঃ রাত ০৯:৩০ ঘটিকায় সুলতানপুর ভিকটিমের শ^শুর বাড়ীতে ইফতারের শরবতের প্যাকেট কাটা-কে কেন্দ্র করে ভিকটিমের সাথে ভিকটিমের স্বামী আব্দুস সালাম ও তার দেবর রুমান মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ভিকটিম রুজিনা বেগম-কে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন এলোপাতাড়ি মারধর করে। এর পরের দিন সকাল অনুমান ০৬:৩০ ঘটিকায় ভিকটিমকে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন যৌতুক বাবদ এক লক্ষ টাকা এনে দিতে বলে। ভিকটিম যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে এলাপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। ভিকটিম প্রাণের ভয়ে প্রতিবেশী জ্যোৎস্না বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নিলে তার শ্বশুর এবং স্বামী জ্যোৎ¯œা বেগমের বাড়িতে গিয়ে ভিকটিমকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে টেনে-হিচড়ে তার শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যায়। এ সংবাদ পেয়ে ভিকটিমের ভাই এবং আত্মীয় স্বজন ভিকটিমকে উদ্ধার করতে গেলে ভিকটিমের শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাদেরকে গালিগালাজ করে তাদেরকে বাসা থেকে বের করে দেয়। ঘটনার খবর প্রাপ্তীর পর তাৎক্ষনিক এসআই(নিরস্ত্র) হারুনুর রশিদ সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ ঘটনাস্থল থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
ঘটনার পর পরই কুলাউড়া থানা পুলিশ গৃহবধু নির্যাতনকারীদের গ্রেফতারের জন্য বিশেষ টিম তৈরী করে অভিযান শুরু করে। ১৮/০৪/২০২৩ খ্রিঃ তারিখ রাত ০২:৩০ ঘটিকায় সুলতানপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিমের স্বামী আব্দুস সালামকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১৮/০৪/২০২৩ খ্রিঃ তারিখ বিকেল ০৫.৩০ ঘটিকার সময় মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই হারুনুর রশিদ সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সের সহায়তায় ভিকটিমের শ^শুর আসামী শফিক মিয়াকে মৌলভীবাজার সদরের একাটুনা গ্রামের তার মেয়ের জামাই শামসুল মিয়ার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
উক্ত ঘটনায় কুলাউড়া থানার মামলা নং-২০, তারিখ-১৮ এপ্রিল, ২০২৩ খ্রিঃ, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধনী/০৩) এর ১১(গ)/৩০ রুজু করা হয়েছে।



