‘এ যেন এক জাদুর বাক্স। যা দিয়ে তারা জয় করেছে সারাদেশ। বিজ্ঞানের এমন উদ্ভাবনের চেষ্টা তাদের গভীর মনযোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে’।
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ মোহাম্মদীয়া কামিল (এম এ) মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী সাফল্য এবারের জাতীয় বিজ্ঞান সপ্তাহ। এর মধ্যে প্রযুক্তির এক মহা সাফল্য এনেছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। তারা পেয়েছে জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার।
শিক্ষার্থীরা একটি ডাস্টবিন তৈরি করেছে যেখানে কোন হাতের ছোয়া লাগে না। যে কেউ সেখানে ময়লা ফেলতে পারে। শুধু তাই নয় এখানে তারা একটি প্রতিযোগিতা তৈরি করতে সক্ষম ময়লা ফেলা নিয়ে। তারা সেখানে উন্নত প্রযুক্তি দ্বারা মার্কিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। ডাস্টবিনের মধ্যে দুইটি অংশ। যেখানে একটিতে ফেলা যাবে পচনশীল এবং অপচনশীল ময়লা। তারা ভেবেছে পচনশীল ময়লা দিয়ে সার উৎপাদন হবে এবং অপচনশীল ময়লা আবারও পূণরায় কাজে লাগানো যাবে।
সিগনাল:
একটি নির্দিষ্ট সিগনাল দিয়ে ডাস্টবিন বুঝিয়ে দেবে সে পুরো ভর্তি হয়ে গেছে। এই পদ্ধতিতে সিটি করপোরেশন বা নির্দিষ্ট রক্ষণাবেক্ষণ এর কাজে নিয়োজিতরা তা বুঝতে পারবে।
মার্কিং ব্যবস্থাঃ
তারা ডাস্টবিনের মধ্যে একটি মার্কিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছে যাতে বোঝা যাবে কে বেশি ময়লা ফেলতে পারে। এতে করে উপহারের আশায় সবাই ময়লা ডাস্টবিনে ফেলবে এটা অত্যন্ত ভাল উদ্যোগ। এবং এতে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে ভাবনাঃ
যেখানে রাষ্ট্র প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কাজ করছে পাশাপাশি মানুষকে এজন্য কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে তারই প্রতিফলন পাওয়া গেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তারা একটি সাদাছড়ি তৈরি করেছে যেখানে রয়েছে দিক নির্দেশ পদ্ধতি, রয়েছে রাস্তার সীমারেখা – বিশেষ প্রয়োজনে এস এম এস পদ্ধতি। যার মাধ্যমে সহজে একজন অন্ধ ব্যক্তি তার পথচলাকে স্বাভাবিক করতে পারবেন।
সোলার প্যানেলঃ
বর্তমান সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে রাস্তা আলোকিত করা। সেখানে শিক্ষার্থীরা একটি ল্যাম্পপোস্ট তৈরি করেছে যেখানে আলোর প্রতিফলন, সৌর এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় পাশাপাশি পথচারীদের সুবিধা দিয়ে থাকে।
ফেঞ্চুগঞ্জ মোহাম্মদীয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আতহার জানান- ছেলেরা কিছু ভাল কাজ করতে পারছে। আমি এতে তাদের জন্য আনন্দিত হই। বর্তমান সময়ে মাদরাসা শিক্ষায় বিজ্ঞানের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। যার একটি উদাহরণ আমাদের শিক্ষার্থীরা।
তারা জাতীয় বিজ্ঞান মেলা সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা, সিলেট জেলা, বিভাগীয় পর্যায় শেষে জাতীয় পর্যায়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
যে সকল শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টার ফলে এই বিশেষ আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে তারা সকলেই প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।



