সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ৫ টি ইউনিয়নের ভোট গ্রহণ ১৬ ই মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হয়েছে ১৪ মার্চ রাত ১২ টায়। প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা করেছেন। এবারের নির্বাচনে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক মনোনীত প্রার্থী থাকলেও নেই বিএনপি, জামায়াত। শুধুমাত্র একটি ইউনিয়নে অংশ নিচ্ছে জাতীয় পার্টি। নৌকার সাথে প্রতিযোগিতায় লড়াইয়ে আছেন এ পর্যন্ত সাধারণ জরিপ অনুযায়ী ১ নং সদর ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতীকে ইকবাল আহমেদ খান। সেখানে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আখতার হোসেন, আর নৌকার মাঝি শাহিন আহমেদ। ২ নং মাইজগাঁও ইউনিয়নে গত প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে নৌকার কোন প্রার্থী জয়লাভ করেননি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে হেরে যায় নৌকা৷ শুধু এখানেই নয় মাত্র একটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হোন। এবারের নির্বাচনে মাইজগাঁও ইউনিয়নে তুমুল লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নৌকার মাঝি জুবেদ আহমেদ চৌধুরী শিপুর সাথে সমান তালে রয়েছেন জামায়াত নেতা ইমরান আহমেদ চৌধুরী (ঘোড়া) এবং সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাছিত (মোটরসাইকেল) নিয়ে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে আছেন মুহিত আহমেদ শাহ। ৩ নং ঘিলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের নৌকার পাল্লা তেমন ভারী নয়। সেখানে নৌকার মাঝি সাইফুল ইসলাম মনার সাথে রয়েছেন জামায়াত নেতা রুকনুজ্জামান চৌধুরী, আমিনুর রহমান জুয়েল। ৪ নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন পরিষদে নৌকার প্রার্থী হাজী লুদু মিয়ার সাথে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আহমেদ জিলু। ৫ নং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে নৌকার প্রার্থী জুনেদ আহমেদ এর সাথে বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান উদ্দিন লড়াইয়ে আছেন। অন্যদিকে ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য পদে অনেক প্রার্থী রয়েছেন৷ তাদের প্রচারণাও ভালই সাড়া ফেলেছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে কোন কাজ করেননি বলে জানা গেছে। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এর বরাত দিয়ে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ সাদা পোশাকে গুয়েন্দা সদস্য কাজ করবেন। পাশাপাশি কালো টাকা রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। সসর্বশেষ নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি ঠেকাতে মরিয়া আওয়ামী লীগের কর্মীরা। কিন্তু তাতে বাধা হিসেবে রয়েছে অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী। এছাড়াও বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও তাদের দলের নেতারা ঠিকই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাড়িয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তসলিম আহমদ নেহার জৈন্তা বার্তাকে জানান, নির্বাচন পরবর্তী দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই বিষয় জানিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। এ বিষয়ে তারা জেলা কমিটির কাছে তালিকাও পাঠাবেন বলে জানান। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় মোট ৪৫ টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এবং নির্বাচন চলাকালীন কোন অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন ঠেকাতে সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।



