মুহাম্মদ জুয়েল, ফেঞ্চুগঞ্জঃ সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে আগামী ১৬ ই মার্চ ৫ টি ইউনিয়নের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্র ৪৫ টি। এর মধ্যে নির্বাচনের প্রচারণায় সরব হয়ে উঠেছে গোটা উপজেলা। উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী কিছু পোষ্টার ছিড়ে ফেলা ছাড়া আর তেমন গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোন জনপ্রতিনিধিদেরও হস্থক্ষেপ পাওয়া যায় নি৷ তবে দ্বিতীয়বারের মত ফেঞ্চুগঞ্জে (এর পূর্বে উপ নির্বাচন) ইবিএমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও অধিকাংশ ভোটারদের কাছ থেকে ইবিএম সম্পর্কে তেমন একটা ধারণা পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশন কোন আনুষ্ঠানিক ইবিএমের প্রচারণাও করে নি।
ফেঞ্চুগঞ্জে মোট ৫ টি ইউনিয়নে নৌকার ৫ প্রার্থী ছাড়াও বিদ্রোহী প্রার্থীও রয়েছেন৷ এর মধ্যে অন্যতম উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক মুহিত আহমেদ শাহ। নৌকার মাঝি হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন ১ নং ফেঞ্চুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন এ শাহিন আহমেদ, ২ নং মাইজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের জুবেদ আহমেদ চৌধুরী শিপু, ৩ নং এ সাইফুল ইসলাম মনা, ৪ নং এ হাজী লুদু মিয়া এবং ৫ নং উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি জুনেদ আহমেদ রয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি জামায়াত নির্বাচন বয়কট করলেও সকল স্বতন্ত্র প্রার্থী (প্রায়) বিএনপি জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এর মধ্যে ২ নং মাইজগাঁও ইউনিয়ন এ জামায়াতের বর্তমান উপজেলা আমীর ইমরান আহমেদ চৌধুরী, ৩ নং ঘিলাছড়া ইউনিয়ন এ জামায়াতের দুই নেতা রুকনুজ্জামান চৌধুরী এবং আমিনুর রহমান জুয়েল, ৫ নং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ এ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ এমরান উদ্দিন, ৫ নং এ উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক আহমেদ জিলু।
বর্তমান পর্যবেক্ষণ এবং ভোটারদের মুক্তমত থেকে যা জানা গিয়েছে এ পর্যন্ত ১ নং ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল আহমেদ খান। ২ নং এ লড়াই হবে ৪ মুখী৷ এর মধ্যে মূল লড়াইয়ে আছেন নৌকার মাঝি জুবেদ আহমেদ চৌধুরী শিপু এবং ইমরান আহমেদ চৌধুরী। এর পরেই রয়েছেন জুমাদুল করিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম বাছিত এবং পাশাপাশি মুহিত আহমেদ শাহ ও কম অবস্থানে নয়। এজন্য এই ইউনিয়নের চার থেকে পাচমুখী লড়াই হতে পারে। ৩ নং ঘিলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে এ পর্যন্ত এগিয়ে রুকনুজ্জামান চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম মনা এবং আশরাফ আলী খান সিরু। ৪ নং এ ত্রী মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা আছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের হাজী লুদু মিয়া, বর্তমান চেয়ারম্যান আহমেদ জিলু এবং সিরাজুল ইসলাম সাজুল রয়েছেন। ৫ নং মূল প্রতিযোগিতা হবে বিএনপির দুই নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এমরান উদ্দিন এবং আফজাল হোসেন এর মধ্যে। তবে দক্ষিণ দিকে নৌকার প্রার্থী একক অবস্থানে জুনেদ আহমেদ রয়েছেন।
অন্যদিকে এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রার্থী বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছেন ৪ নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন এ জাতীয় পার্টির সুহেল ইসলাম, ৫ নং এ আফজাল হোসেন, ২ নং এ মুহিত, জুমাদ, আছাদ, ১ নং এ শাহীন।
ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবেও অধিকাংশ প্রার্থী নবীন। সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য পদে তেমন কোন সাড়া নেই।



