সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ আগামী ১৬ই মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এর পূর্বে ২০১৮ সালে নানা জল্পনা কল্পনা শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে ৩ নং ঘিলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া বাকি ৪ টি ইউনিয়নের মধ্যে বিএনপি ও আল ইসলাহ’র প্রভাব ছিল বেশি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে বিএনপি না থাকায় কিছুটা ফাঁকা মাঠে গোল দেবার প্রচেষ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগের অবস্থান। যদিও কিছু হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন কিন্তু তাদের মধ্যে তেমন সম্ভাবনা দেখছেন না সাধারণ ভোটাররা। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ৫ টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেছে সিলেট জেলা ও কেন্দ্র সমন্বিত কমিটি। এর মধ্যে আলোচিত কোন মুখ নেই। যারাই এসেছেন তারাই ছিলেন সম্ভাবনার মধ্যে। ফেঞ্চুগঞ্জ ১ নং সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন সাহিল আহমদ। শুধুমাত্র তিনিই ব্যতিক্রম। ২ নং মাইজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের নৌকা প্রতীক পেয়েছেন গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পাওয়া জুবেদ আহমেদ চৌধুরী শিপু।
৩ নং ঘিলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমান চেয়ারম্যান হাজী লেইছ চৌধুরী সমর্থন দিয়ে নৌকা প্রতীক পাইয়ে দিলেন ৮০ র দশকের ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম মনা কে। ৪ নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন নৌকা প্রতীক প্রাপ্ত হাজী লুদু মিয়া এবারও নৌকার মাঝি হয়েছেন। বহুল আলোচিত ৫ নং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের নৌকার মাঝি হলেন উপজেলা তাতীলীগের আহবান আতিকুর রহমান মিঠু। এর মধ্যে বাদ পড়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাজী লেইছ চৌধুরী, ওফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাহিদ সুলতান পাশা, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক মাসার আহমেদ শাহ, সাবেক সভাপতি জুনেদ আহমেদ, সাবেক সহ সভাপতি জুনেল আহমেদ, সাবেক যুগ্ন আহবায়ক মিসলু চৌধুরী, সাবেক ফেঞ্চুগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক মুহিত আহমেদ শাহ সহ বেশ কয়েকজন তরুণ যুবনেতা ও ছাত্রনেতা। অন্যান্য নির্বাচনের চাইতে এবার একটু ব্যতিক্রম ছিল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা। এদের মধ্যে দুই ডজনের অধিক ছিলেন তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাময় ছাত্রনেতা। কিন্তু কেউই নৌকা প্রতীক পাননি। অন্যদিকে বিএনপি অংশ না নিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন বিএনপি ও জামায়াতের অনেক নেতারা। এর মধ্যে ৫ নং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এমরান উদ্দিন, ৪ নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমেদ জিলু প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আরও রয়েছেন উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বিএনপি নেতা আফজাল হোসেন। অন্যদিকে নৌকা প্রতীক ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নিবেন বলে জানিয়েছেন মুহিত আহমেদ শাহ। পাশাপাশি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাইজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইমরান আহমেদ চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান সুফিয়ানুল করিম এর পরিবারের পক্ষে যুমাদুল করিম চৌধুরী, ঘিলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদে আমিনুর রহমান জুয়েল, রুকনুজ্জামান চৌধুরী, উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন পরিষদে জাতীয় পার্টির সুহেল উদ্দিন, ৩ নং ঘিলাছড়া ইউনিয়নে আশরাফ আলী খান সিরু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি গুঞ্জন রয়েছে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন ফেঞ্চুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ও মাইজগাঁও ইউনিয়ন এর সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাছিত।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারী। সেইদিন পর্যন্ত অপেক্ষা কারা থাকছেন নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতায়। অন্যদিকে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে প্রায় ৫০ এর অধিক তরুণ ব্যক্তিরা নিজেদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সবমিলিয়ে এবারের নির্বাচনে তরুণদের আধিপত্য বেশি বলা যায়।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা শারমিন জানান, ফেঞ্চুগঞ্জ যথাযথ সময়ে একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি সকল প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে নির্বাচনের প্রচারণা করার আহবান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে নির্বাচনে না আসা প্রসঙ্গে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুজ্জামান ছুফি চৌধুরী জানান, যদি কোন বিএনপি বা অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী নির্বাচনে অংশ নেন তবে দল তাদের প্রতি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।



