কুলাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাটেরা বাজার রেলওয়ে স্টেশন প্রায় দেড় যুগ থেকে বন্ধ রয়েছে।
সিলেট-আখাউড়া রেলসেকশনের কুলাউড়া উপজেলায় যে ৭টি রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে তন্মধ্যে ৫টি স্টেশন বন্ধ রয়েছে।
এতে ট্রেনের ক্রসিং বিড়ম্বনায় মূল্যবান সময় নষ্ট হয় যাত্রীদের। সর্বোপরি চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
লোকবল সংকটের কারণ দেখিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই রেল স্টেশনগুলো কর্তৃপক্ষ চালুর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় স্টেশনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরি হচ্ছে। পাশাপাশি এসব স্টেশনে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকায় একদিকে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অন্যদিকে সিলেট পড়ুয়া ছাত্র/ছাত্রী সহ যাত্রীরা তাদের যাতায়াত ও মালপত্র পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
ভাটেরা স্টেশন চালুর দাবিতে একাধিকবার স্থানীয় এলাকাবাসী আন্তঃনগর ট্রেন আটকিয়ে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন।
রেল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিলেও সেই দাবি আজও পূরণ হয়নি।
ভাটেরা বাজার স্টেশনের সিগন্যাল ভবনটি স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরা দখল করে তাদের স্টাফদের থাকার ব্যবস্থা করেছে।
প্লাটফর্ম দখল করে হোটেল করা হয়েছে, রাখা হয়েছে অনান্যা হোটেল ব্যাবসায়ীদের লাখরী, পেলা হয় হোটেলের আবর্জনা স্টেশনের সামনে জায়গা দখল করে দোকান দিয়ে বসে আছে অনেক ব্যাবসায়ীরা, এভাবে অন্য স্টেশনগুলোতে রেলওয়ের সঙ্গে জড়িত চতুর লোকজন বহিরাগত লোকজনদের ভাড়া দিয়ে মাসোহারা আদায় করছে বলে জানা যায়।
স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে ট্রেনগুলোর ক্রসিং নিয়ে।
বরমচাল স্টেশন থেকে মাইজগাঁও স্টেশনের দূরত্ব প্রায় ১৫-১৭ কিলোমিটার, মধ্যখানে ভাটেরা বাজার স্টেশন রয়েছে এবং কুলাউড়া থেকে শমশেরনগর স্টেশনের দূরত্ব প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার, এর মধ্যখানে লংলা ও টিলাগাঁও রেল স্টেশন রয়েছে যা দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ।
প্রতিদিন এ রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর আপ-ডাউন ৬টি ট্রেন ও একটি লোকাল মেইল ট্রেন এবং মালবাহী ট্রেন ক্রসিংয়ের জন্য আগে লংলা স্টেশনকে ব্যবহার করা হতো।
কিন্তু কিছু দিন আগে এই স্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার রজত রায়কে সিলেটের মোগলাবাজার রেল স্টেশনে বদলি করে দেওয়ায় স্টেশনের কার্যক্রম সেখানকার সিগন্যালিং ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে ক্রসিংয়ের জন্য কুলাউড়া নতুবা শমশেরনগর স্টেশনে এক ট্রেনকে দাঁড় করিয়ে অন্য ট্রেনকে ক্রসিং দিতে হয়। ভাটেরা বাজার স্টেশন বন্ধ থাকায় মাইজগাঁও নতুবা বরমচাল স্টেশনের মধ্যে যেকোনো ট্রেন দাঁড় করিয়ে ক্রসিং দিতে হয়।
বন্ধ থাকা এসব স্টেশনে ট্রেনের নির্ধারিত সময় অনুমান করে যাত্রীরা লোকাল ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, পাওয়া যায় না টিকেট।
এলাকা বাসী জানান এক সময়ের জমজমাট লংলা, টিলাগাঁও, মনু, ছকাপন ও ভাটেরা স্টেশনগুলো এখন অনেকটা নীরব।
নেই কোনো কোলাহল বা যাত্রীদের প্রাণচাঞ্চল্য, আড্ডা।
যেন এক ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে স্টেশনগুলোতে, বেদখল হচ্ছে রেলের জমি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে, রেলওয়ে কতৃপক্ষ জানান, সারা দেশেই বর্তমানে স্টেশন মাস্টার সংকট রয়েছে।
সিলেট-আখাউড়া সেকশনের অনেক স্টেশন মাস্টারের অভাবে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
নতুন স্টেশন মাস্টার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, নিয়োগ শেষে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন মাস্টাররা।
আশাবাদী নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা দায়িত্ব নেওয়ার পর এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।।



