সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের হাটুভাঙ্গা গ্রামে ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেলে একই গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক ইমন ও নাজিম আহমেদের মধ্যে পূর্ব ঘটনার জের ধরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনায় আহত হয়েছেন উভয় গ্রুপের ৭ জন।
তারা হলেন হাটুভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা কাঠ ব্যবসায়ী নাজিম (৩৪) তার বড় ভাই আতিক (৪০) ফয়েজ মিয়ার পুত্র এনামুল হক ইমন (৩৫) তার চাচা ফাহিম (৪২), শামীম মিয়ার সহধর্মিণী রুকিয়া বেগম (৩৬) এবং নাজিম মিয়ার পুত্র শিহাব (১৭)
এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার কর্তব্যরত এস আই আশরাফুল ইসলাম জানান, আমি খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে যাই এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে আহত ব্যক্তিদের উদ্বার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং যদি কেহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করেন তবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু এ বিষয়ের সুন্দর মীমাংসা জন্য মাইজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবেদ আহমেদ চৌধুরী শিপু এবং কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বিষয়টি দেখছেন সেজন্য আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত নাজিম আহমেদ এর পূত্র শিহাব কে গত শবে কদরের রাত্রে এশার নামাজের পূর্বে ইমন এর পিতা ফয়েজ মিয়া শিহাব সহ কিছু ছেলেকে সুন্দর পোষণ পরিধান করে নামাজের জন্য আসতে বলেন। তারপর শিহাব তার বাবাকে গিয়ে বলে তাকে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয় নিয়ে হাটুভাঙ্গা পঞ্চায়েত কমিটির সহ-সভাপতি আকমল মিয়ার নিকট নাজিম বিচারপ্রার্থী হলে তিনি যানান, যেহেতু ফয়েজ মিয়া ইতেকাফে রয়েছেন তিনি বের হওয়ার পর বিষয়টি এলাকাবাসী নিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে ফয়েজ মিয়ার পুত্র ময়নুল হক মনু জানান, আমার ভাই এবং চাচা ব্যবসায়ীক কাজ থেকে ফিরে আসার পথে সন্ত্রাসী নাজিম বাহিনী তাদের উপর হামলা চালায়। এবং আমার ভাই ও চাচা আত্মরক্ষা করতে গিয়ে তাদের উপর ও চড়াও হতে গেলে নাজিম বাহিনী তাদের উপর আরও চড়াও হয়। এক পর্যায়ে দুই পরিবারের গোষ্ঠীর সদস্যরা ঘটনায় জড়িয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, আমার ভাই মাইজগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সম্মেলন প্রস্তুতির সভাপতি। তিনি বিগত নির্বাচনেও অংশ নিয়েছেন। তিনি একজন সমাজকর্মী। তিনি এ রকম কিছুতে জড়ানোর কথা নয়।
হাটুভাঙ্গা পঞ্চায়েত কমিটির কোষাধ্যক্ষ হাফিজুল ইসলাম কুদ্দুস জানান, আমি শুনেছি হাটুভাঙ্গা মাঠের পাশে আজিম মিয়ার দোকানের কাছে একটি মারামারি হয়েছে। কিন্তু বিস্তারিত কোন তথ্য এখনো আমি পাইনি।
নাজিম মিয়ার ভাই রাতিক জানান, আমার ভাইয়ের উপর এবং ভাতিজার উপর ফয়েজ মিয়ার গোষ্ঠীর লোকেরা আক্রমণ করে। আমরা তা থামাতে গেলে এক পর্যায়ে আমার ভাতিজা এবং ভাবী আহত হন। এ বিষয়ে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় অভিযোগ করবেন বলে জানান।
এস আই আশরাফুল ইসলাম জানান, আমি ঘটনা তদন্ত করে স্থানীয় এলাকাবাসীদের জিজ্ঞাসা শেষে হাসপাতালে আসি এবং শিহাব নামের একটি ছেলের অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পাঠাই।
বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার কারণে বর্তমানে আর কোন ঘটনা যেন না সে বিষয়ে খেয়াল রাখছেন বলে জানান এস আই আশরাফুল ইসলাম।
পরবর্তীতে আরও জানা যায়, উপরে উল্লেখিত ময়নুল হক মনু জানান, সংঘর্ষের সময় আমার একটি মোটরসাইকেল তারা ভেঙে ফেলে এবং তাহার আত্মীয় সাকুল মিয়ার সহধর্মিণী রেলী বেগম (৩৫) আহত হোন।



