সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের গঙ্গাপুর গ্রামের একটি খাল দখল হতে হতে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। যে কারণে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় খালের আশপাশে থাকা বাড়ির লোকজনদের। পাশাপাশি খালকে ঘিরে কৃষি কাজে থাকা কৃষকরাও দাবি জানান খালটি দখলমুক্ত করার।
এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গঙ্গাপুর হাওর থেকে ‘উজান গঙ্গাপুর খাল’ হিসেবে পরিচিত খালটি কুশিয়ারা নদীতে এসে মিলিত হয়েছে। খালটির বর্তমানে কোনো চিহ্ন নেই। খালের কিছু অংশে গড়ে উঠেছে বাড়িঘর। আবার কোথাও ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে যাতায়াতের রাস্তা। এতে ভরাট হয়ে গেছে খালের বেশিরভাগ অংশ।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় থেকেই খালটি দখল হওয়া শুরু হয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারি খাস জায়গায় খালের পাশে আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৫নং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে প্রকল্পের ঘরগুলো উদ্বোধন ও উপকারভোগীদের কাছে জমির দলিলসহ হস্তান্তর করার পর খাল দখল হতে থাকে। এরপর গঙ্গাপুর হাওর থেকে খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষিজমিতে সেচ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর খালের আশপাশে থাকা বাড়ির লোকজন খাল ভরাট করে যাতায়াতের রাস্তা বানানোর কারণে বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সেচ দিতে পারেন না। ফলে বাড়তি খরচ করে সীমিত আকারে কিছু জমিতে ফসল উৎপাদন করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাইবেন বলে জানান কৃষকরা। তারা আরও বলেন, খালটি দখলমুক্ত হলে কৃষকরা উপকার পাবেন পাশাপাশি এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও বর্তমান সরকার সারাদেশে দখল ও ভরাট হওয়া খাল খননের কাজ করায় এলাকাবাসী আশা করেন গঙ্গাপুর খালটিও সরকার যথাযথ ব্যবস্থার মাধ্যমে খালটি দখলমুক্ত করবে।



