মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মাওলানা শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী (সেকুল)। দীর্ঘদিন ধরে ভাটেরা ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে জীবনের শেষ সময়টুকু জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবায় কাটানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সম্প্রতি ভাটেরা ইউনিয়নের ইসলামনগর এলাকার স্থানীয় মসজিদ ও যুবকদের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময়কালে তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান।
মাওলানা শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী বলেন, জীবনের ছোট-বড় নানা আশা পূরণের পাশাপাশি গত প্রায় ৩৭-৩৮ বছর ধরে ভাটেরা ইউনিয়নের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন তিনি। এ সময়ে মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দির, স্কুল-কলেজ, ঈদগাহ ও গোর্স্থানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা, রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন, মসজিদে মাইক প্রদান এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ঘর নির্মাণে সহযোগিতা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে সামর্থ্য অনুযায়ী অংশগ্রহণ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যেসব আশা করেছি, আল্লাহর রহমতে অনেকটাই পূরণ হয়েছে। জীবনের শেষ বয়সে জনপ্রতিনিধি হয়ে ভাটেরা ইউনিয়নের মানুষের আরও কাছাকাছি থেকে সেবা করার ইচ্ছা রয়েছে। এ জন্য আমি সবার দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা চাই।”
তিনি আরও জানান, অতীতে একাধিকবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি। এবারও মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যাশা করছেন তিনি।
নিজের ধর্মীয় সফরের কথা উল্লেখ করে মাওলানা শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী জানান, তিনি দুইবার হজ ও নয়বার ওমরাহ পালন করেছেন। এসব সফরে দেশের মানুষ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার জন্য দোয়া করেছেন বলেও জানান তিনি।
নিজের মায়ের শেষ সময়ের একটি স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে তাঁর মা তাঁকে বলেছিলেন—জীবনে যেসব ছোট-বড় আশা করেছেন, আল্লাহ অনেকটাই পূরণ করেছেন; চেয়ারম্যান হওয়ার আশাটিও একদিন পূরণ হবে। মায়ের সেই কথাকে তিনি জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন।
মাওলানা শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী বলেন, “আমি মাঠে আছি, আল্লাহর ওপর ভরসা করে। আশার মতো বরাবরই ভাটেরা ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ, দেশ-বিদেশে থাকা ভাই-বোন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাশে থাকার প্রত্যাশা করছি।”
তিনি দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভাটেরা ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেন।



