সাইবার হামলায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে
পর্তুগাল, স্পেন ও ফ্রান্সসহ ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বেশ কিছু এলাকায়। সোমবার (২৮ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আচমকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে পুরো পর্তুগালের মূল ভূখণ্ড।
একই পরিস্থিতিতে পড়ে স্পেন, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। বিদ্যুৎহীন কয়েক ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও, এর নির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেনি কোনো দেশ।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান করা না গেলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পর্তুগালের জরুরি পরিষেবা।
স্প্যানিশ গ্রিড অপারেটর রেড ইলেক্ট্রিকা জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানে কাজ করছে তারা।সাইবার হামলার কারণে এই বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন সংশিষ্টরা।
বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে টেলিযোগাযোগ খাতও। রাস্তাঘাটে ট্রাফিক সিগন্যাল না থাকায় আসছে সড়ক দুর্ঘটনার খবর।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রাস্তায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করেছে পর্তুগাল পুলিশ। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে এলিভেটরে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্টরা।
জেনারেটর দিয়ে হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবা চালু রাখতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। উড়োজাহাজ ওঠা-নামাও বন্ধ রেখেছে বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর।
রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে স্পেন ও পর্তুগালের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ট্রাফিক লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যান চলাচলে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হয় ও হাসপাতালগুলো বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। মেট্রো ও এলিভেটরে আটকে পড়েন বহু মানুষ।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পুলিশ সাইরেনের শব্দ ও হেলিকপ্টারের গর্জনে কেঁপে ওঠে আকাশ। টরে এম্পেরাদর নামের একটি সুউচ্চ ভবন সিঁড়ি দিয়ে খালি করে ফেলা হয়। স্কুলে আটকে পড়া সন্তানদের খোঁজে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা সংকেতহীন ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা চালান।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির বাসিন্দারা হঠাৎ করেই নানাবিধ সমস্যায় জড়িয়ে পড়েন। টেলিযোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে অভিযোগ। সেইসঙ্গে, বাসিন্দারা তাঁদের মোবাইল নেটওয়ার্কও ব্যবহার করতে না পারার কথা জানিয়েছেন।
স্পেনের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক এইএনএ দেশজুড়ে ফ্লাইট বিলম্বের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, পর্তুগালের বিমানবন্দর অপারেটর এএনএ জানিয়েছে, জরুরি জেনারেটর ব্যবহার করে পোর্তো ও ফারো বিমানবন্দরে ন্যূনতম কার্যক্রম বজায় রাখা হয়েছে, তবে লিসবনে কিছু সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। মেডেইরা ও আজোরেস বিমানবন্দর এখন পর্যন্ত এই বিভ্রাটের প্রভাবের বাইরে রয়েছে।
স্পেন ও পর্তুগালের সরকার এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসে। স্পেনের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিপর্যয় ফ্রান্সের কিছু অংশেও সাময়িকভাবে প্রভাব ফেলেছিল। স্পেনে একটি সংকট ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।



