দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল গতকাল ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এতে বলা হয়েছে আগামী ৭ জানুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের চাওয়াটাযে বড় আক্ষেপের। তা স্পষ্ট। আব্দুর রকিব মন্টু বলেছেন, যুবকদের নিয়ে তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ এর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চান। সেই সুযোগ অবশ্য এবার হয়ত আব্দুর রকিব মন্টু’র প্রতি দলের থাকবে।
অঅন্যদিক এই আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল কাদের নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন তা স্পষ্ট নয়। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতাও তার সাথে নয়। এর কারণ তিনি নিজেই জানেন।
অন্যদিকে নির্বাচন কে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর দিকে থাকবে সাধারণ মানুষের নজর। কারণ দলীয় প্রতীক ই হচ্ছে একটি দলের মাপকাঠি। আর সেই প্রতীক কাকে দেওয়া হবে তাকে নিয়ে একটু বেশিই আগ্রহ থাকে সবসময়।
বিশেষ করে যদি ধরা যায় তাহলে সিলেট ৩ আসনে হাবিব- মন্টু- দুলালদের সঙ্গে জায়গা খুজছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক। এ যেন এক মহা সংকট।
তফসিল ঘোষণার পরে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।
বাংলাদেশের প্রচলিত নির্বাচন প্রসঙ্গে বলতে গেলে বলতে হবে সিলেট থেকেই নির্বাচন শুরু করে সকল দল। কেননা পুণ্যভূমি সিলেটে শায়িত আছেন হযরত শাহজালাল র. সহ অনেক ওলী আউলিয়া। যে কারণে সিলেট থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে সকল দল।
এবারের নির্বাচনে সিলেটের উল্লেখযোগ্য আসনের মধ্যে অন্যতম একটি আসন হচ্ছে সিলেট -৩। কেননা এই আসনে রয়েছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ সারকারখানা – পাশাপাশি বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং বিশেষ কিছু অর্থনৈতিক অঞ্চল। যার কারণে এই আসনের দিকে বাড়তি নজর থাকে সবার।
সিলেট ৩ আসনে একটানা ১৪ বছর রাজনৈতিক শাসন চালিয়েছেন প্রয়াত সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। তার মৃত্যুর পর থেকে ভেঙে পড়ে এই আসনের চিত্র। সর্বশেষ উপ-নির্বাচনে ২৫ জন ব্যক্তি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন।
এবারের ২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন – বর্তমান সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএমএইচ এর মহাসচিব ও আওয়ামী লীগ নেতা ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুর রকিব মন্টু, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা – আ স ম মিসবাহ, মুহাম্মদ মুনির হোসাইন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুল, সহ প্রায় ডজন খানেক মনোনয়ন প্রত্যাশী।
তবে সিলেট ৩ আসন থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের তেমন কেউ নেই বলে দাবি সকল প্রার্থীদের। তাদের কথা দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তাতে তারা সন্তুষ্ট।
হাবিবুর রহমান হাবিব
নানা তর্ক বিতর্ক তাকে ঘিরে। কিছুদিন পূর্বে সংসদে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কথা বলায় অনেক জায়গায় সমালোচনার মুখোমুখি চিনি। ফের নির্বাচন কে সামনে রেখে কোন চিন্তাই যেন নেই তার। থাকবেই না কেন? তিনিতো সংসদ সদস্য আছেন। তার প্রত্যাশা তার উপরেই দল আবারও সিলেট ৩ আসনে আস্থা রাখবে।
ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল
হঠাৎ আগমন জনগণের সামনে। কিন্তু না, তার ভাই ও ছিলেন এই আসনের প্রয়াত সাংসদ। গ্রামীণ জনপদের স্বাস্থ্যসেবা এবং উন্নয়ন নিয়ে মাঠে ঘুরছেন ডা. দুলাল। তার প্রত্যাশা শেখ হাসিনা তাকে মনোনয়ন দেবেন গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য। তার সাথে আবার রয়েছেন প্রয়াত সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী’’র সকল নেতাকর্মী। এইদিক থেকে তার পাল্লা অনেকটা ভারী।
আব্দুর রকিব মন্টু
চারবার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল তাকে সেই সুযোগ দেয়নি। এবার সুযোগ চান তিনি কিছু করে দেখাবার। এজন্য উন্নয়ন সমাবেশ – উঠান বৈঠক করে তিনিও আলোচনায় রয়েছেন। তার উদ্দেশ্য শিল্পাঞ্চলকে যথাযথ কাজে লাগানো। তাতেই মিলবে সুফল। সেই অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তিনি।
সিলেট ৩ আসনে নৌকা প্রতীক প্রত্যাশী হিসেবে আরও আছেন – মুহাম্মদ মুনির হোসাইন, শমসের জামাল, মতিউর রহমান শাহীন, সহ আরও অনেকে।



