সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ১০৪০ কোটি ২০ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে মহানগরীর আরামবাগস্থ আমানউল্লাহ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিসিক মেয়র এ বাজেট ঘোষণা করেন।
শুরুতেই তিনি বলেন- এটি সম্ভবত আমার পরিষদের শেষ বাজেট। মহানগরবাসীর সুযোগ-সুবিধা ও সেবা প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবার সর্বমোট ১০৪০ কোটি ২০ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা আয় ও সমপরিমাণ টাকা ব্যয় ধরে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
সিসিক মেয়র বলেন, টানা ৩বার সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে দেশের সকল সিটির মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে দেশের সকল সিটির মধ্যে প্রথম হওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রনালয়ের ২০টি দপ্তর ও সংস্থার মধ্যে ২য় বারের মতো দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। এই অর্জনের স্বীকৃতি স্বরূপ অভিনন্দন স্মারক ও সনদ প্রদান করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
বাজেট ঘোষণার বক্তব্যে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন- বন্যাকবলিত সিলেট অঞ্চল পরিদর্শন শেষে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী স্বতঃফূর্তভাবে মেয়র তথা সিসিকের কর্মতৎপরতা নিয়ে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছন। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য নাগরিকসেবায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে কর্মরত সিটি কর্পোরেশনের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে।
সিলেট নগরের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য মেয়র বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ূ পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এমপির প্রতি।
বাজেট বক্তৃতায় মেয়র বলেন, সাম্প্রতিককালের আকস্মিক বন্যার কারণে সিলেট বিভাগের লাখ লাখ মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। সিলেট মহানগরবাসীও এই অসহনীয় কষ্ট ও দুর্দশা থেকে পরিত্রাণ পাননি। এই দুর্ভোগ মহানগরবাসীর কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। যা থেকে পরিত্রাণের পথ আমাদের জরুরি ভিত্তিতে খুঁজতে হবে। এক্ষেত্রে বাস্তবতাকে স্বীকার করেই আমাদেরকে সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা ও বন্যা- এই দুটো বিষয়কে এক করে দেখলে চলবে না। দুটো বিষয় আলাদা। এবার আকস্মিক বন্যার কারণে টানা কয়েকদিন মহানগরীর বেশ কয়েকটি এলাকার পানি নামতে পারেনি মূলত নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে।
মেয়র বলেন, মহানগরীর ড্রেন ও ছড়ার পানি নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। কিন্তু সেই নদীও ড্রেজিং না হওয়াতে ভরাট হয়ে গেছে। বিপত্তি ঘটে তখনই যখন উজান থেকে ঢল এসে সুরমা নদীর পানি স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই ছড়া ও খাল দিয়ে প্রবাহিত পানি সুরমা নদী হয়ে নামতে পারবে না। উল্টো সুরমা নদীর পানি মহানগরীর ছড়া দিয়ে ঢুকে অনেক এলাকা প্লাবিত করে ফেলে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ইন্সটিটিউট অব ওয়ারটার মডেলিং কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এই বিষয়ে বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনা দিয়েছে। এসব প্রস্তাবনার মধ্যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নদী খনন করা, নিচু এলাকা যেমন উপশহরে পানির পাম্পিং স্টেশন করা, ছড়ার সংযোগস্থলে স্লুইচ গেইট তৈরী, ড্রেনের প্রশস্ততা আরও বৃদ্ধি করা।
Sylhet view return



