জীবনের ব্যর্থতার ১০ বছর সাইপ্রাস কাটিয়েছেন। যা উপার্জন করেছেন তা দিয়ে সংসার চালানো দায়। এরমধ্যে করোনার ভয়াবহতা। তারপরও নিজেকে এক অভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার উজান গঙ্গাপুর গ্রামের কৃপালাল দাস। প্রায় ৫ একর জমির উপর চাষ করেছেন বিদেশি জাতের তরমুজ। সাথে রয়েছে শষা, পেপে সহ নানান সবজি।
চাষের প্রাথমিক উদ্দ্যেশ্য
প্রবাস থেকে দেশে এসে চিন্তা করলেন কি চাষ করা যায়। যেই এলাকার কথা বলছি সেটা হল ভাটি অঞ্চল। প্রায় ১২ মাস জমিতে থাকে পানি। সেখানে শুধু ধান ছাড়া আর কোন ফসল ফলানোর চিন্তাও করেননি কেউ? আর সেই অবিশ্বাস্য কাজটি করে দেখালেন কৃপালাল দাস। ভেজা জমিতে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা এক জাতীয় পলিতিন দিয়ে আবরণ সৃষ্টি করলেন। যা মাটিকে অতিরিক্ত তাপ শোষণ ও সূর্যের বেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে। সেখানে বপন করলেন হলুদ, এবং হালকা কালো জাতের তরমুজ। ধীরে ধীরে তা বড় হতে লাগল। এখন তা যেন দৃষ্টি আকর্ষণ করার মত কৃষি খেত।
গোল্ডেন ক্রাউনের বৈশিষ্ট্য
এই তরমুজ সাধারণত বাইরে হলুদ এবং ভেতরে লাল হয়। যা খেতেও খুব মিষ্টি। এর মধ্যে দুইজাতের তরমুজ আছে। অন্যটা বাইরের অংশ কিছুটা কালো কিন্তু ভেতর হলুদ। যা অত্যন্ত সুস্বাদু।
কেন জাতের তরমুজ চাষ
এ বিষয়ে কৃষক কৃপালাল দাস জানান, তিনি যখন দেশের বাইরে ছিলেন তখন এই তরমুজ দেখতে পান। এবং বাংলাদেশের মাটিতে এই প্রথম পরিক্ষামূলকভাবে এর চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত তার ফসলি বাগানে রয়েছে প্রায় ৫০০ তরমুজ। যার এক একটার ওজন প্রায় ২ থেকে ৩ কেজি। প্রতিটি তরমুজ তিনি বিক্রি করছেন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়।
অসময়ে শষার চাষ
শষা মূলত সব সময় হয়না। কিন্তু তিনি এক বিশেষ চারা রোপণ করে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ কেজি শষা বাজারজাত করছেন।
অর্গানিক এগ্রোফার্ম
তিনি এর পাশাপাশি বিদেশি জাতীয় ৩০ টি গাভী পালন করছেন। যা প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ কেজি দুধ সরবরাহ করে থাকে। এজন্য তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন অর্গানিক এগ্রোফার্ম।
কৃপালাল দাসের কিছু কথা
তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন৷ এবং তারপর পাড়ি জমান সাইপ্রাস। সেখান থেকে এসে এই উদ্ভাবনী কার্যক্রম শুরু করেন। সরকারি সহায়তা পেলে তিনি আরও বড় পরিসরে তরমুজ চাষ করে তা বিদেশে রপ্তানি করতে চান। তিনি জানান, এ রকম চাষ করতে প্রথমে একজন ব্যক্তিকে ইংরেজি জানতে হবে। কেননা বিদেশের ফসল সম্পর্কে জানতে ইংরেজি জানা আবশ্যক।
বর্তমানে প্রতিদিন তার তরমুজ বাগানে অনেক মানুষ আসেন এবং তরমুজ কিনে নিয়ে যান।এর পাশাপাশি তার কৃষি কার্যক্রমে আরও ৪ জন শ্রমিক কাজ করেন। তিনি বলেন, এতে কর্মসংস্থান বাড়ছে এবং ভিন্ন কিছু করতে পেরে নিজেই আনন্দিত।



