গতকাল মঙ্গলবার (০৮ জুন) দুপুরে উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের সোনারায় কারবালা গ্রামের হরিশ চন্দ্র বর্ম্মণের বাড়িতে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।
রংপুরের পীরগাছায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া বাড়িতে ৬ মাস ঘর সংসার করার পরেও এক কলেজছাত্রীকে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে গত ১১ দিন থেকে ছেলের বাড়িতে অবস্থান করছে ওই কলেজছাত্রী।
এর আগে, ভাড়া বাসা থেকে সমাধানের কথা বলে ছেলের বাড়িতে উভয়কে নিয়ে আসা হলেও স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানান ছেলের মা। ফলে গত ১১দিন ধরে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটছে ওই কলেজছাত্রীর।
কলেজছাত্রী ও তার পরিবার সুত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের হরিশ চন্দ্র বর্ম্মনের ছেলে পংকজ কুমার বর্ম্মণের সঙ্গে একই গ্রামের মামাতো বোন ওই কলেজছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে রংপুরে লেখাপড়ার সুযোগে ছয় মাস আগে ওই শিক্ষার্থীকে গোপন একটি স্থানে শাঁখা-সিঁদুর পড়িয়ে বিয়ে করেন পঙ্কজ। পরে শহরের আলমনগর খামারটারী এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার শুরু করে তারা।
সম্প্রতি বিষয়টি উভয় পরিবারের মাঝে জানাজানি হলে সমাধানের জন্য ছেলের পরিবার তাদেরকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে ছেলের পরিবারের লোকজন পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ছেলেকে গোপনস্থানে রেখে মেয়েটিকে বেধড়ক মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে মেয়েটিকে উদ্ধার করে ছেলে বাড়িতে রেখে আসেন।
স্থানীয়রা জানান, পংকজ কুমারের মা ওই ছাত্রীকে ছেলের স্ত্রী হিসেবে মেনে না নেওয়ায় গত ১১ দিন থেকে সমাধান করা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে ওই ছাত্রী ছেলের বাড়িতে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
কলেজছাত্রী জানায়, পংকজ কুমার সম্পর্কে তার ফুফাতো ভাই। দীর্ঘ এক বছর প্রেমের সম্পর্কের পর ছয় মাস আগে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ে করে একইসঙ্গে রংপুর শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে ঘর সংসার করে আসছিল। সম্প্রতি সময়ে ছেলে ও তার পরিবারের লোকজন তাদের বাড়িতে উঠিয়ে নেয়ার জন্য নিয়ে আসে। কিন্তু তাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি তরুন কুমার রায় বলেন, ছেলে-মেয়ে উভয়ে সাবালক। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন করেছে তারা, শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে। বিষয়টি জরুরী ভিত্তিতে সমাধান করা উচিত।
তাম্বুলপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু ছেলে পক্ষ রাজী না থাকায় সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করা হয়েছে।
পীরগাছা থানার ওসি আজিজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান হওয়ার কথা। সমাধান না হলে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জালালাবাদ /জুয়েল /৫৭৮৩



