place বাংলাদেশ সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হাকালুকি হাওরে বোরো আবাদে সেচ সঙ্কট কৃষকের চোখে জল! আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর ইন্তেকাল আমাদের কাজগুলো যেন মানুষের কল্যাণে হয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুলাউড়ায় ফরিদা রহমান ট্রাস্ট ও আলহেরা ইসলামী যুব সংঘের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথম অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনজুমানে আল ইসলাহ নিউইয়র্ক স্টেট কমিটির কাউন্সিল ও শপথ গ্রহণ  ২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা, স্থগিত যেসব আসন সিলেটে তিন আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, একটিতে এগিয়ে বিএনপি- স্বতন্ত্র প্রার্থী কম নয় সিলেট-১ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আকমল হোসেনের প্রচার মিছিল ও পথসভা ফেঞ্চুগঞ্জে এম এ মালিকের দিনব্যাপী  গণসংযোগ ঐক্যবদ্ধ বিএনপি, রিকশায় চড়তে গেলে ফুটবলে দিতে হবে গোল! মালেকের সম্ভাবনা বেশি ডা. শফিকের ঘাটিতে কাপ পিরিচ নিয়ে জোয়ার উঠেছে সাহেদ খানের! স্পেনে অনিয়মিত অধিবাসীদের নিয়মিতকরণের ঘোষণায় দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের মধ্যে স্বস্তি কুলাউড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা সাহেদের নির্বাচনী ৩৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা মনির আহমদ একাডেমীর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন যুক্তরাজ্য থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন ফেঞ্চুঞ্জের নাঈম জনপ্রিয় শিক্ষক ও সাংবাদিক জহিরুল ইসলামের বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ! মশাহিদ আলী বালিকা মাদরাসার যেকোনো সহযোগিতায় ফেঞ্চুগঞ্জ কল্যাণ সমিতি ইউকে সব সময় চেষ্টা করে যাবে – মো. ছালিক মিয়া

সিলেট শহর পানির নিচে তালিয়ে গেছে পানিবন্দি ছয় লক্ষ মানুষ

ইবাদুর রহমান জাকির
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০২২
  • ৬৮৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

১৬ মে। অকাল বন্যায় ডুবে যায় সিলেট। এক সপ্তাহের মধ্যে সে পানিও নেমে যায়। শহরেই ছিল কোমর পানি। এখনো শুকায়নি সেই বন্যার ক্ষত। ১৬ই জুন। ফের বন্যার আঘাত সিলেটে। এবার যেন বন্যার ভয়ঙ্কর রূপ। উজানের ঢল নামছেই। সীমান্তবর্তী চার উপজেলার দৃশ্য ভয়াবহ।

পানিবন্দি হয়ে লাখ লাখ মানুষ গৃহবন্দি। ঘরেও পানি। এতে করে অনাহারে দিন যাপন করছে চার উপজেলার বাসিন্দারা। চারটি  উপজেলা হচ্ছে; কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট। এর বাইরে ওসমানীনগর, বিশ্বনাথ ও সিলেট সদরের বেশিরভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। সিলেট নগরেও আঘাত হেনেছে বানের পানি। এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে উপশহরের সি-ব্লক। প্রধান সড়কেও পানি। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে পড়েছেন বাসিন্দারা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার, সিলেটে ১৩ সেন্টিমিটার, জৈন্তাপুরের সারির পানি ৩২ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটে প্রবল বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উজানের ভারতের মেঘালয় ও আসামের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করছেন পাউবো’র কর্মকর্তারা।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরে কোমর পানি। সরকারি দপ্তরে কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে। ঢল অব্যাহত থাকায় ৬টি ইউনিয়নের ৮০ ভাগ এলাকা পানির নিচে। প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। পানিবন্দি মানুষজন অনাহারে-অর্ধাহারে বসবাস করছেন। পার্শ্ববর্তী গোয়াইনঘাটের সঙ্গে সিলেটের সড়ক যোগাযোগ দু’দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সালুটিকর-গোয়াইনঘাট, সারি-গোয়াইনঘাট এবং জাফলং-গোয়াইনঘাট সড়কে কোমর পানি। এ কারণে কোনো ধরনের যানবাহনই চলাচল করতে পারছে না। গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরেও হাঁটু পানি। জৈন্তাপুরে বন্যা পরিস্থিতি আরও প্রকট হচ্ছে। সারি নদীর ঢলে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ঢল অব্যাহত থাকায় সিলেট-তামাবিল সড়কও রয়েছে হুমকির মুখে। কানাইঘাট উপজেলা সদরে কোমর পানি। বুধবার রাতে সুরমার ডাইক উপচে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এদিকে ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর, বিশ্বনাথে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

এ চারটি উপজেলার গ্রামীণ সড়কে পানি উঠে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সিলেট সদরের খাদিমনগর, টুকেরবাজার, জালালাবাদ, কান্দিগাঁও ইউনিয়নেও প্রায় ৩০ মানুষ পানিবন্দি। স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ গত দু’দিন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রধান আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ জানিয়েছেন- সিলেটে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত রয়েছে। বিশেষ করে মেঘালয়ে প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে। একই সঙ্গে ছাতক, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্বরপুর, তাহির এলাকায় ও তার উজানে বৃষ্টিপাত রয়েছে। তিনি জানান- গত বুধবার এক দিনে সিলেটে ১৪৩ মিলিমিটার ও মঙ্গলবার ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির অবনিত হওয়ায় গতকাল বিকেলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরী বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে জেলা দুর্যোগ কমিটির সবাই উপস্থিত ছিলেন। সিলেটের ত্রান কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিলেটে বন্যায় এরই মধ্যে ৬ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যায় কয়েকটি উপজেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ইতিমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষকে। বন্যার্তদের জন্য প্রাথমিকভাবে আড়াইশ’ টন চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
নগরেও পানি : এক মাসের ব্যবধানে ফের সিলেট নগরেও বন্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- নগরীর উপশহর এলাকার সি ও ডি ব্লকে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া- যতরপুর, সুবহানীঘাট, তেররতন, বুরহানউদ্দিন সড়কেও পানি ঢুকেছে। উপশহর সহ কয়েকটি এলাকায় মানুষের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নগরের প্রাণকেন্দ্র তালতলা এলাকায়ও কোমর পানি। ওই এলাকা দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কাজিরবাজার, তোপখানার হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডের ঘাষিটুলা, বেতের বাজার, কানিশাইল সহ কয়েকটি এলাকা গতকাল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান জানিয়েছেন- ‘বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। গতকাল আমরা কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছি। যারা পানিবন্দি রয়েছে তাদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে আশ্রয় কেন্দ্র খোলার বিষয়টি নিয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
পুরাতন খবর
© এই ওয়েভসাইটের কোন লেখা বা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোন ওয়েভসাইটে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-2281