মিত্রদের চাহিদা মেটাতে গেলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে যে ৪টি আসন ছেড়ে দিতে হবে, সেগুলো হলো সিলেট-২ (জাপা), সিলেট-৩ (জাপা), সিলেট-৫ (আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ/জাপা) ও সিলেট ৬ (তৃণমূল বিএনপি/জাপা)। সমঝোতাপ্রত্যাশী একাধিক দল ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। সমঝোতা না হলে চারটি আসনেই আওয়ামী লীগ ও জাপার প্রার্থী থাকবেন ভোটযুদ্ধে। নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে হাইকমান্ডের নির্দেশেই ক্ষমতাসীন দলের স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীও মাঠে থাকছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কে কোন আসনে প্রার্থী হচ্ছেন, সেটা জানা যাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৭ ডিসেম্বর।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) : এ আসনে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ-সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ-সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী, তৃণমূল বিএনপির মো. আবদুল মান্নান খান, জাকের পার্টির মো. ছায়েদ মিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আলতাফুর রহমান সোহেল। আগের দুটি নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জোটের বলি হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরীকে এবং গত নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের (গণফোরাম) প্রার্থী মোকাব্বির খানকে এই আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। বলি হন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী। এবার তিনি ছাড় দিতে নারাজ। দুবার হাতছাড়া হওয়া আসনটিতে এবার দলীয় প্রার্থী চান স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারাও। বর্তমান সংসদ-সদস্য মোকাব্বির খানের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল হয়ে যাওয়ায় জাতীয় পার্টি এবারও আসনটি পেতে চায়। জাপা আসনটি পেলে শরিকদের কাছে হারানোর হ্যাটট্রিক করতে পারেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী।
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) : এ আসনে আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আনোয়ারা হোসেন আফরোজ, ইসলামী ফ্রন্টের শেখ জাহেদুর রহমান মাসুম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কফিল আহমদ চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএমএ-এর মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলালের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে। প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি আপিল করেছেন। তবে দলীয় প্রার্থিতা পেলেও নৌকার মাঝিকে এবার লড়তে হচ্ছে নির্বাচনি মিত্র জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিকের সঙ্গে। স্থানীয় জাপার দাবি, আতিকুর রহমান আতিক দীর্ঘদিন এ আসনে কাজ করছেন। আগের দুটি নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ছাড় দিয়েছেন, এবার তাকে দেওয়ার পালা।
সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) : এ আসনে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ-সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার এবার নির্বাচন করছেন না। তবে দলটি মনোনীত মাসুক উদ্দিন আহমদ, মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ আল কবীর, জাতীয় পার্টির শাব্বীর আহমদ, বাংলাদেশ মুসলীম লীগের (বিএমএল) মো. খায়রুল ইসলাম, তৃণমূল বিএনপির কুতুব উদ্দিন শিকদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী আঞ্জুমানে আল-ইসলাহর সভাপতি মোহাম্মদ হুছামুদ্দিন চৌধুরী ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. বদরুল আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।
২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসনে মাসুক উদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করছিলেন। ওই সময় সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হন সেলিম উদ্দিন। সমঝোতায় ক্ষমতাসীনরা সিলেট-৫ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিলে সংসদ-সদস্য হন সেলিম উদ্দিন। আর জোটের বলি হন মাসুক উদ্দিন। এবার আসনটি পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী জাতীয় পার্টি মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাব্বির আহমদ। এছাড়াও আঞ্জুমানে আল-ইসলাহর সভাপতি মোহাম্মদ হুছামুদ্দিন চৌধুরীও ক্ষমতাসীন দলের সহযোগিতায় সংসদ-সদস্য হতে চান। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করেন। এরপর থেকে আওয়ামী লীগ তাকে ছাড় দিচ্ছে বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এমনটি হলে ফের কপাল পুড়তে পারে মাসুক উদ্দিন আহমদের।
সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) : এ আসেনে আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম নাহিদ, জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন, তৃণমূল বিএনপির শমসের মবিন চৌধুরী, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আতাউর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের সাদিকুর রহমান ও আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সরওয়ার হোসেনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে এ আসনটি একাধিক দল পাওয়ার লড়াইয়ে থাকায় কপাল পুড়তে পারে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাহিদের। তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী ও জাপার সাবেক সংসদ-সদস্য সেলিম উদ্দিন আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করার ব্যাপারে আশাবাদী।



