সিলেট নগরীর ৫নং ওয়ার্ডের ৩৫ আম্বরখানা বড়বাজার এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শাকিল মজুমদার গং অভিযোগ করেছেন যে, তার সম্পত্তি কতিপয় প্রভাবশালী ভূমিখেকোরা আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দখলের পায়তারা করছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের বিল্ডিং নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী ভবনের পার্শ্ববর্তী রাস্তাগুলোর প্রশস্ততার উপর নির্ভর করছে ভবন নির্মাণের অনুমোদন।ভবন সংলগ্ন রাস্তার প্রসস্থ হতে হবে কমপক্ষে ৩.৬৫ মিটার এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন রাস্তার ক্ষেত্রে প্রশস্ততা হতে হবে কমপক্ষে তিন মিটার।যদি কোনো পাশে লম্বাভাবে রাস্তা শেষ হয় সেক্ষেত্রে এর প্রস্থ পাশের রাস্তার প্রস্থ বলে বিবেচিত হবে।বিধিমালায় আরো বলা হয়েছে মালিকানায় উল্লেখ নেই এমন রাস্তা সর্বসাধারণের রাস্তা বলে বিবেচিত হবে। ভবনটি দুই রাস্তার সংযোগ স্থলে অবস্থিত হলে এর কোণে এক মিটার জায়গা রাস্তা সরলীকরণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। এছাড়া ভবনের কাছের যেকোনো রাস্তার কেন্দ্র থেকে কমপক্ষে সাড়ে চার মিটার দূরে ভবনটি নির্মাণ করতে হবে।এছাড়া বিল্ডিং এর পাশের সীমানা দেয়ালের উচ্চতা হতে হবে ১.৭৫ মিটার বা তার কম।২.৭৫ মিটার উচ্চতার দেয়াল করা যাবে।তবে এক্ষেত্রে উপরের এক মিটার গ্রিল বা জালি হতে হবে এবং কমপক্ষে ৩ ফুট ফাঁকা জায়গা রেখে সীমানা দেয়াল নির্মান করতে হবে।ভবনের প্রত্যেকটি রুমে দরজা, জানালা, ফ্যান, লাইট ইত্যাদির মাধ্যমে স্বাভাবিক আলো-বাতাস চলাচলের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। রান্নাঘরের অবস্থান ভবনের এক পাশে অর্থাৎ বাইরের দেয়ালের সাথে হতে হবে।ফ্লোরের যেকোনো জায়গা থেকে ২৫ মিটারের মধ্যে জরুরি নির্গমন পথ থাকতে হবে।এক্ষেত্রে ১টি নির্গমন পথ দিয়ে সকল জায়গা আচ্ছাদিত না হলে, ২টি বা তার বেশি ফায়ার এক্সিট রাখতে হবে। এছাড়া ফায়ার সেফটি হিসেবে ভবনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বা অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে। জরুরি সময়ে যাতে সবাই ভবন থেকে বের হয়ে যেতে পারে এজন্য নির্দেশিত ফায়ার অ্যালার্মও রাখতে হবে। এছাড়াও ভবন নির্মাণের সময় বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা রাখতে হবে।আবর্জনা অপসারণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা।এসব বিষয় উল্লেখ্য থাকলেও এই বিধিনিষেধ গুলো অমান্য করে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সীমানা দেয়ালের কাজ করাচ্ছেন পুলিশের এক কর্মকতা এবং সেই বিল্ডিংয়ে বসবাসরত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন শাখায় কর্মরত ছমির আলী (৫০) এবং তার বড় ছেলে কবির আহমদ (৩০)ছোট ছেলে ইমন আহমদ (২৬)।
এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে (ডকেট নং-৪০৬৭) অভিযোগ জানালে অদৃশ্য কারনে উক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।বিধিনিষেধ অমান্য করে যে জায়গায় সীমানা প্রাচীর নির্মান করা হচ্ছে সেই জায়গায় যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত,সিলেটে স্বত্ত্ব বাটোয়ারা ১০৭/২০১৮ ইং চলমান রয়েছে।উক্ত মোকদ্দমায় মাননীয় আদালত বিগত ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
ফলে উভয়পক্ষ দখলদারি থেকে বিরত ছিলেন।আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও বিল্ডিং কোড অমান্য করে বিগত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ইং এসএমপি এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারী ছমির আলী এবং তার ছেলেদের নেতৃত্বে অবৈধভাবে সীমানা প্রাচীর নির্মান কাজ শুরু করা হয়।এছাড়াও হুন্ডির টাকায় বিল্ডিং নির্মান করেছেন বলেও গুঞ্জন শোনা যায়।
এমতাবস্থায় জায়গা দখল ও সীমানা প্রাচীর তুলতে বাধা দেওয়ায় প্রয়াত বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তানদেরকেও দেওয়া হচ্ছে হত্যা,গুমসহ নানান ধরনের হুমকি।প্রবাস থেকে এসব করাচ্ছেন প্রতিবেশি শাহ মোহাম্মদ সালেক হোসেন ও শাহ মোহাম্মদ মালেক হোসেন।তাদের সহায়তা করছে শাহ মোহাম্মদ সালেক হোসেনের ভাড়াটিয়া সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারী ছমির আলী এবং শাহ মোহাম্মদ মালেক হোসেনের পরিচিত পুলিশের এক অসাধু কর্মকর্তা।তাদের এ অপকর্ম থেকে রক্ষা পেতে পুলিশের উর্ধত্বন কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন মহলের দ্বারস্থ হচ্ছেন ভুক্তভোগী প্রয়াত বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত হোসেন মজুমদারের ছেলে শাকিল মজুমদার ও তাঁর পরিবার।
এবিষয়ে শাকিল মজুমদার এসএমপি এয়ারপোর্ট থানায় (১৪১) নং সাধারণ ডায়েরী করেন।তিনি জানান দেশে থাকাকালীন শাহ সালেক হোসেনের সহযোগী তাহার ভাড়াটিয়া গং শাকিল মজুমদারের বাসায় ভাংচুর সহ সন্ত্রাসী হামলা করেন।পুলিশ সহ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারী ভাড়াটিয়াকে উৎকোচের বিনিময়ে এসব কাজ করাচ্ছেন শাহ মোহাম্মদ সালেক হোসেন ও শাহ মোহাম্মদ মালেক হোসেন।
শাকিল মজুমদার আরোও জানান জন্মগত ভাবে তিনি হার্টের রোগী।দেশ-বিদেশে চিকিৎসার মাধ্যমে বর্তমানে সুস্থ আছেন।ভূমিখেকো চক্রের হুমকি-ধামকির দুঃশ্চিন্তায় যেকোন সময় বড় ধরনের শারিরীক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।এমতাবস্থায় তাঁহার বসত বাড়ী ভূমিখেকো চক্রের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেছেন।
এসএমপি সিলেটের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে উক্ত বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেন নি।



