সিলেট নগরীর ৫ নং ওয়ার্ডের এয়ারপোর্ট এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. শাকিল মোর্শেদ অভিযোগ করেছেন যে, তার পিতার সম্পত্তি কতিপয় প্রভাবশালী ভূমিখেলোরা আলাদাভাবে নির্দেশ অমান্য করে তার উপর দখলদারত্ব চালাচ্ছে।
তিনি জানান, নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী ভবনের পার্শ্ববর্তী রাস্তাগুলোর প্রশস্ততার উপর নির্ভর করছে ভবন নির্মাণের অনুমোদন।ভবন সংলগ্ন রাস্তার প্রসস্থ হতে হবে কমপক্ষে ৩.৬৫ মিটার এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন রাস্তার ক্ষেত্রে প্রশস্ততা হতে হবে কমপক্ষে তিন মিটার। যদি কোনো পাশে লম্বাভাবে রাস্তা শেষ হয় সেক্ষেত্রে এর প্রস্থ পাশের রাস্তার প্রস্থ বলে বিবেচিত হবে।বিধিমালায় আরো বলা হয়েছে মালিকানায় উল্লেখ নেই এমন রাস্তা সর্বসাধারণের রাস্তা বলে বিবেচিত হবে। ভবনটি দুই রাস্তার সংযোগ স্থলে অবস্থিত হলে এর কোণে এক মিটার জায়গা রাস্তা সরলীকরণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। এছাড়া ভবনের কাছের যেকোনো রাস্তার কেন্দ্র থেকে কমপক্ষে সাড়ে চার মিটার দূরে ভবনটি নির্মাণ করতে হবে।এছাড়া বিল্ডিং এর পাশের সীমানা দেয়ালের উচ্চতা হতে হবে ১.৭৫ মিটার বা তার কম। ২.৭৫ মিটার উচ্চতার দেয়াল করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে উপরের এক মিটার গ্রিল বা জালি হতে হবে এবং কমপক্ষে ৩ ফুট ফাঁকা জায়গা রেখে সীমানা দেয়াল নির্মান করতে হবে।ভবনের প্রত্যেকটি রুমে দরজা, জানালা, ফ্যান, লাইট ইত্যাদির মাধ্যমে স্বাভাবিক আলো-বাতাস চলাচলের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। রান্নাঘরের অবস্থান ভবনের এক পাশে অর্থাৎ বাইরের দেয়ালের সাথে হতে হবে।ফ্লোরের যেকোনো জায়গা থেকে ২৫ মিটারের মধ্যে জরুরি নির্গমন পথ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে ১টি নির্গমন পথ দিয়ে সকল জায়গা আচ্ছাদিত না হলে, ২টি বা তার বেশি ফায়ার এক্সিট রাখতে হবে। এছাড়া ফায়ার সেফটি হিসেবে ভবনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বা অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে। জরুরি সময়ে যাতে সবাই ভবন থেকে বের হয়ে যেতে পারে, এজন্য নির্দেশিত ফায়ার অ্যালার্মও রাখতে হবে। এছাড়াও ভবন নির্মাণের সময় বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা রাখতে হবে।আবর্জনা অপসারণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা।এসব বিষয় উল্লেখ্য থাকলেও এই বিধিনিষেধ গুলো অমান্য করে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সীমানা দেয়ালের কাজ করাচ্ছেন পুলিশের এক কর্মকতা এবং সেই বিল্ডিংয়ে বসবাস করছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের এক কর্মচারী।এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে (ডকেট নং-৪০৬৭) অভিযোগ জানালেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি উক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে।বিধিনিষেধ অমান্য করে যে জায়গায় সীমানা প্রাচীর নির্মান করা হচ্ছে সেই জায়গায় যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত,সিলেটে স্বত্ত্ব বাটোয়ারা ১০৭/২০১৮ ইং চলমান রহিয়াছে।উক্ত মোকদ্দমায় মাননীয় আদালত বিগত ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী ১৪৪ ধারা জারি করেন।
ফলে উভয়পক্ষ দখলদারি থেকে বিরত ছিলেন।আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিগত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ইং এসএমপি এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মচারীর নেতৃত্বে অবৈধভাবে সীমানা প্রাচীর নির্মান কাজ শুরু করা হয়।সেই সাথে মানা হচ্ছে না বিল্ডিং কন্সট্রাকশনের কোন বাধ্যবাধকতা ঝুকিপূর্ণ হচ্ছে বাসাবাড়ি।এমতাবস্থায় জায়গা দখল ও সীমানা প্রাচীর তুলতে বাধা দেওয়ায় প্রয়াত বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে দেওয়া হচ্ছে হত্যা,গুমসহ নানান ধরনের হুমকি।নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দেশ ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন দূর প্রবাসে।সেই সুযোগই কাজে লাগিয়েছেন প্রতিবেশি শাহ সালেক হোসেন ও শাহ মালেক হোসেন।শাহ সালেক হোসেনের ভাড়াটিয়া সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারী এবং শাহ মালেক হোসেনের পরিচিত পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার অপকর্ম থেকে রক্ষা পেতে পুলিশের উর্ধত্বন কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন মহলের দ্বারস্থ হচ্ছেন ভুক্তভোগী প্রয়াত বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত হোসেন মজুমদারের ছেলে শাকিল মজুমদার।
এবিষয়ে শাকিল মজুমদার এসএমপি এয়ারপোর্ট থানায় (১৪১) নং সাধারণ ডায়েরী করেন।তিনি জানান দেশে থাকাকালীন শাহ সালেক হোসেনের সহযোগী তাহার ভাড়াটিয়া শাকিল মজুমদারের বাসায় ভাংচুর সহ সন্ত্রাসী হামলা করেন।পুলিশ সহ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারী ভাড়াটিয়াকে উৎকোচের বিনিময়ে এসব কাজ করাচ্ছেন শাহ সালেক হোসেন ও শাহ মালেক হোসেন।



