সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কটালপুর সেনের বাজারে গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ ইং সকালে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল নেতার স্টেশনারি দোকান থেকে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ। জানা যায়, ঐ দোকানের মালিক উপজেলার উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি, উদ্ধার হওয়া তরুনী কটালপুর (ডন্ডী) গ্রামের মর্তুজ আলীর দ্বিতীয় কন্যা। তার বয়স ছিল ২৫ বছর। তিনি ধর্ষনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার মাতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের বাসিন্দা সুলতান মিয়ার ছোট ছেলে রাজু। অন্যদিকে তার সৎ ভাইদের মধ্যে আলী মাহমুদ আব্দুল্লাহ (৩৮) আব্দুল আলীম (৩৫) আলমগীর হোসেন (৩৩) বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য – সুলতান মিয়ার সম্পত্তি নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে সমস্যা। তাদের পরিবারে প্রায়ই সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে ঝগড়া – কোন কোন সময় হামলাও হত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডন্ডী গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, শাহ আলী ওরফে রাজু সে অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন একজন ছাত্র রাজনীতিবিদ। শুনেছি তার সৎ ভাইয়েরা তাদের সম্পত্তি ভাগ করে নিতে অনেক ঝামেলা করছে। যার কারণে হয়ত শাহ আলীকে রাজনৈতিক এবং পারিবারিক কোনঠাসা করতে তার দোকানে লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শাহ আলী ওরফে রাজু’র পিতা সুলতান মিয়া জানান, শাহ আলী’র বড় ভাইয়েরা তাদের কিছু সম্পত্তি বাংলাদেশের আইনের পরিপন্থীভাবে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মী নিয়ে ২০১৫ ইং সালে একবার হামলা চালায়। পরবর্তীতে ২০১৭ ইং সালের ১৯ জুলাই আবারও বাটোয়ারা বিহীন যৌথ ভূমিকা তার সৎ ভাইয়েরা পাকা গৃহনির্মাণ শুরু করিলে তাতে আপত্তি জানান শাহ আলী ওরফে রাজু’র পিতা- সুলতান মিয়া। সে সময় শাহ আলীর দল বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপির কিছু নেতাকর্মী বিষয়টি নিয়ে কথা বললে এক পর্যায়ে ব্যপক সংগর্ষ ঘটে। এতে সুমন নামে এক যুবলীগ কর্মী নিহত হন। তার পরদিন শাহ আলী ওরফে রাজু সহ মোট ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়। প্রায় ৬ মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। এই মামলায় তার পিতা ছিলেন ২ নং আসামি।
আরও জানা যায়, ২০২১ইং সালে তাহার দোকানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে তাকে গ্রেফতার করে। কিন্তু এর ৪ মাসের মাথায় তিনি জামিনে মুক্তি পান।
উল্লেখ্য – শাহ আলী ওরফে রাজু ফেঞ্চুগঞ্জ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এবং পাশাপাশি তিনি কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এ বিষয়ে পুলিশের সিলেট মিডিয়া সেলের মিডিয়া উইং থেকে জানা যায়, শাহ আলী ওরফে রাজু’র বিরুদ্ধে হত্যা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা ছিল বলে জানতে পারে পুলিশ। এমনকি রুনা হত্যার পেছনে তার জড়িত থাকার বিষয়ে তদন্ত চলমান। এর পূর্বে যুবলীগ কর্মী সুমন হত্যার ইঙ্গিত ও তার দিকে।
যদিও এলাকাবাসী বলছেন- জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার শাহ আলী ওরফে রাজু এবং তার পিতা সুলতান মিয়া। এ কারণে তাদেরকে ধর্ষণের অভিযোগ দিয়ে ফাসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।



