সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত পশ্চিম ফরিদপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত চেরাগ আলী’র তৃতীয় পূত্র বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া ২ নং মাইজগাঁও ইউনিয়ন শাখার সাবেক সহ-সভাপতি মো. তাজ উদ্দিন (২৩) গত ২৫ তারিখ রাত্রে সন্ত্রাসী হামলা (প্রাথমিক ধারণা) ট্রেনে কাটা হয়ে মারা যান বলে জানান সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে থাকা বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পারাইরচক(লালমাটিয়া) রেললাইন থেকে খন্ডিত মরদেহ উদ্ধার করার খবর পেয়ে গিয়ে সনাক্ত করা হয় তাজ উদ্দিনের মরদেহ। ধরণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার পর মরদেহ রেললাইনে রেখে দিয়েছে, যাতে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে বলে চালিয়ে দেওয়া যায়।
এ নিয়ে সিলেট রেলওয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাঠোয়ারি এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৭টায় সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনের নীচে কাটা পড়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে দুপুরের দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা নাকি পরিকল্পিত পূর্বের হত্যাকাণ্ড এ বিষয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
গত তিনদিন নিহত তাজউদ্দীন এর পরিবার সহ বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২৩ ইং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি গ্রাম্য সালিসি হয়। সেখানে স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ গণমাধ্যম ব্যক্তিরা নিহত তাজ উদ্দিনের কাছে পাওনা টাকা একই গ্রামের বাসিন্দা মৃত আঞ্জব আলীর পূত্র ইব্রাহীম এর একটি অভিযোগ এর ভিত্তিতে মোট ৪০ লক্ষ টাকার (যায়গা বিক্রির অর্থ) লেনদেন প্রসঙ্গে অঙ্গীকারনামা করেন। সেখানে ইব্রাহীমের কোন যোগসূত্র নয় বলে জানান তিনি। উল্লেখ ছিল ইব্রাহিম তাজ উদ্দিনের নিকট ৭ লক্ষ টাকা পাবেন এবং তা পরিশোধ করিবে।
ইব্রাহীম বলেন– আমি প্রবাসে যাওয়ার জমানো টাকা আমার বন্ধু তাজ উদ্দিনের কাছে ধার দেই অল্প সময়ের জন্য। কিন্তু যখন দেখলাম আমার প্রবাসে যাওয়ার ক্ষণ ঘনিয়ে আসছে তখন আমি সেই টাকা পাওয়ার জন্য স্থানীয় ময় মুরব্বিদের দারস্থ হই।
উল্লেখ্য ছিল দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লাউয়াই এলাকার বাসিন্দা নিহতের খালাত ইমরান আহমেদ মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ইব্রাহিম কে জানান আমি এক দিনের সময় নিলাম। আমি আমার খালাত ভাই তাজ উদ্দিনের পাওনা ৭ লক্ষ টাকা পরিশোধ করিবো। এবং পরবর্তীতে উল্লেখিত ব্যক্তি একই গ্রামের বাসিন্দা আঞ্জব আলীর পূত্র ইব্রাহীমের সাথে ইমরানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় বলে দাবি করে ইব্রাহিম।
স্থানীয় সূত্রে – জানা যায়, নিহত তাজ উদ্দিন গত ২৫ সেপ্টেম্বর তার ভাইয়ের পাঠানো ৬০,০০০ টাকা উত্তোলন করতে এবং ইব্রাহিম এর পাওনা টাকা দিতে বাড়ি বের হয় । সে সময় সে তার মাকে জানায়, আমি টাকা আনতে ইমরানের বাড়িতে যাচ্ছি। এর পরবর্তী সময়ে সে কোথায় গিয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন তথ্য না থাকলেও তার বড়বোন রিপা বেগম জানান- আমার ভাই বাড়ি থেকে বের হয়ে আমার নানাবাড়িতে ছিল। সেখানে সে দুপুরের খাবার খেয়েছিল। উল্লেখ্য – (নানাবাড়ি) তাজ উদ্দিনের মামার বাড়ি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লাউয়াই এলাকায়। তিনি সেখানকার স্থানীয় ইউপি সদস্য তার নাম- জাবেদ মিয়া। প্রসঙ্গত – নিহত তাজ উদ্দিনের মামা মো. জাবেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন- অঙ্গীকারনামায় উল্লেখিত ইমরানের কোন ফোন নাম্বার ও তার তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
পরবর্তীতে তাজ উদ্দিনের কোন খোঁজ আর পরিবার পায় নি।
সর্বশেষ ফেঞ্চুগঞ্জ থানার মাধ্যমে জানতে পারা যায় – সিলেট পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনে একটি ট্রেনে কাটা লাশ পাওয়া গেছে। সে ফেঞ্চুগঞ্জের বাসিন্দা।
এ বিষয়ে – তাজ উদ্দিনের মামা জাভেদ আহমেদ (মেম্বার) জানান – আমি আমার ভাগনার খোঁজ নেই। তারপর গিয়ে লাশ রেলের উপরে দেখতে পাই। তার পরবর্তীতে স্থানীয় পুলিশ সেখানে গিয়ে লাশটি সিলেট এম এ জি হাসপাতালে পাঠায়।
প্রসঙ্গত – স্থানীয় সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে জানা যায়, উল্লেখিত অঙ্গীকার নামায় মোট ৪০ লক্ষ টাকার লেনদেন এর বিষয় ছিল। এই ৪০ লক্ষ টাকা কে বা কারা বিনিয়োগ কিংবা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে কোথায় কার কাছে রেখেছেন তার কোন স্পষ্ট জবাব নেই।
অন্যদিকে শোকাহত ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুরবাসী বার বার বলে আসছে নিহত তাজ উদ্দিনের সুষ্ঠু বিচার যেন হয়।
সচেতন নাগরিক মহলের দাবি এভাবে যদি যুবকরা বিভিন্ন প্রলোভন কিংবা আর্থিক বিষয়ে জড়িয়ে পড়ে তাহলে অচিরেই সমাজব্যবস্থায় ব্যপক ক্ষতি হবে।
এ প্রসঙ্গে – কোন মামলা দেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে এখনো পারিবারিক সূত্রে কিছু জানা যায় নি। সর্বশেষ গতকাল পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, একটি মামলা দায়ের করা হবে।



