গোলাপগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক রাজমিস্ত্রীর হাতের ৩টি আঙ্গুল কেটে ফেলেছে হামলাকারীরা। ঘটনার পর মূমুর্ষ অবস্থায় ঐ রাজমিস্ত্রীকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করেছেন স্থানীয়রা। হামলার শিকার রাজমিস্ত্রী গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের রায়গড় এলাকার বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম (৫৫)। এ ঘটনায় আহতের পুত্র মো. আজমল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২/৩জন সহ ২ জনের নাম উল্লেখ করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি মামলাটি আমলে নিয়েছে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা। (মামলানং-১৩, তাং-১৮.১২.২২)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সিরাজুল ইসলামের বাড়ীর রাস্তা নিয়ে একই এলাকার জুয়েল আহমদ গংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধটি নিরসন করে দিতে একই এলাকার মৃত মাতাব মিয়ার পুত্র সাকের আহমদ তাদেরকে প্রস্তাব করে। তবে এজন্য তাদেরকে টাকা দিতে হবে। সিরাজুল ইসলাম ও তাদের পরিবারের সদস্যরা টাকা দিতে অপারগতা স্বীকার করে সাকেরকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেন। এতে তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয় মামলার আসামী মৃত মাতাব মিয়ার পুত্র সাকের আহমদ (৪০) ও মৃত আপ্তাব মিয়ার পুত্র সেকেল আহমদ (৪০) পেশী শক্তির বলে সিরাজুল ইসলাম ও তার পরিবারের ক্ষতির চেষ্টা চালিয়ে যান। সর্বশেষ গত ১৬ই ডিসেম্বর (শুক্রবার) বিকেল সিাড়ে ৪টার দিকে রাজমিস্ত্রি সিরাজুল ইসলাম কাজ শেষে বাড়ী ফেরার পথে ইউপি সদস্য আব্দুর রউফের বাড়ীর সামনে আসা মাত্র পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা সাকের আহমদ ও সেকেল আহমদ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সিরাজুল ইসলামের বাম হাতের ৩টি আঙ্গুলের রগ কেটে যায়। এছাড়া এলোপাতাড়ী কুপ প্রতিহত করতে গিয়ে উভয় হাতের বিভিন্ন অংশে গুরুত্ব যখমপ্রাপ্ত হন। তার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হামলাকারীরা। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা সিরাজুল ইসলামকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেয়ার পথে সিরাজুল ইসলামের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। তাকে জরুরী বিভাগের ভর্তির এ পর্যন্ত দুটি অপারেশন করা হয়েছে। সিরাজুল ইসলাম এখনো আশংকামূক্ত হননি। উন্নত চিকিৎসার জন্য হয়ত তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হতে পারে।
এ ব্যাপারে সিরাজুল ইসলামের পুত্র মামলার বাদী মো. আজমল হোসেন প্রতিবেদককে জানান, এলাকায় তারা অবৈধ কাজ করে ক্ষমতাসীন হয়ে গেছেন। তাদের অবৈধকাজে প্রতিবাদ করলে এভাবেই হামলার শিকার হতে হয়। আমাদের বিরোধের বিষয়টি নিয়ে তাদেরকে কোন ধরনের সহযোগীতা বা নিরসনের কথা হয়নি। ইচ্ছাকৃত ভাবে টাকার বিনিময়ে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেন। আমরা প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে আমার বাবার উপর হামলা করে। ৫ দিন ধরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাবে ভর্তি রয়েছেন। হাতের ৩টি আঙ্গুল ও রগ কেটে যাওয়ায় ২টি অপারেশন করা হয়েছে। তবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ন অপারেশন বাকি রয়েছে। কর্তব্যরত ডাক্তাররা জানিয়েছেন সেই অপারেশন যদি সিলেটে না হয় তাহলে ঢাকা গিয়ে করাতে হবে।
সিরাজুল ইসলামের পুত্র আজমল হোসেন আরো জানান, ঘটনার পর থেকে তার পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছে হামলাকারীরা। বিশেষ করে থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করলে প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছে বলে জানান তিনি। এছাড়া হামলাকারীরা সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে প্রায় ১৪ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই পার্থ সারথী দাস জানান, এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। আসামীদের আটক করতে পুলিশ সোচ্চার রয়েছে। আশাকরি খুব শীঘ্রই তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে।



