দেশের ক্রীড়া সাংবাদিক ও লেখকদের প্রাচীন সংগঠন বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানব, লন্ডন প্রবাসী অ্যাথলেট ইমরানুর রহমান। তিনি ফুটবলার রাকিব হোসেন ও ক্রিকেটের নাজমুল হোসেন শান্তদের পেছনে ফেলে এই পুরস্কার জিতে নেন।
১৯৬৪ সাল থেকে সেরা ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের পুরস্কৃত করে আসছে বিএসপিএ। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিকালে জমকালো এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৩ সালের সেরাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয় সংগঠনটি।
বিএসপিএ সভাপতি রেজওয়ান-উজ জামান রাজিবের সভাপতিত্বে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ও স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। নানা ক্যাটাগরীতে বর্ষসেরাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাবেক তারকা ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকরা। পুরস্কার প্রদানের মাঝে গান গেয়ে সবাইকে আনন্দ দেন উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ। শুটার এমা নৃত্য পরিবেশন করেন এবং দেশের অন্যতম সেরা কোরিওগ্রাফার আলিফ উশুর কোরিওগ্রাফি করে দেখান।
২০২৩ সালে অনেক খেলায় বাংলাদেশের সাফল্যের ঘটনা থাকলেও ইমরানুর রহমানের কৃতিত্ব ছিল অনন্য পর্যায়ে। তিনি কাজাখস্তানের এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পয়নশিপে ৬০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণ জিতেছিলেন। এশিয়ান পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্সে বাংলাদেশের প্রথম স্বর্ণপদক জয়ের কৃতিত্ব এটি। এমন অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্যই ইমরানুর বিএসপিএ’র সেরা ক্রীড়াবিদের পুরস্কারটি পেয়েছেন।
সব সময়ই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনায় থাকেন ক্রিকেটাররা। এরপর খানিকটা ফুটবলাররা থাকলেও অন্য খেলার ক্রীড়াবিদরা বছরজুড়েই থাকেন নীরবে-নিভৃতে। গত বছর ইমরানুরের পারফরম্যান্স অ্যাথলেটিক্সকে ফের আলোচনায় এনেছে। এশিয়ান ইনডোরে সাফল্য আনা ইমরানুর রহমান চলতি বছরও বাংলাদেশকে পদক এনে দিতে চান। বিএসপিএ’র বর্ষসেরা পুরস্কার জিতে তিনি বলেন,‘আপনাদের ভালোবাসায় আমার এই সাফল্য। চলতি বছর বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আছে, সেখানেও আমি পদক জিততে চাই। সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।’ পুরস্কার গ্রহণের জন্য ইংল্যান্ড-দুবাই হয়ে ঢাকা এসেছেন ইমরান। খুব শীঘ্রই লন্ডন ফিরে যাবেন তিনি।
গত বছর বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত ক্রীড়াবিদ ছিলেন ফুটবলার শেখ মোরসালিন। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে অভিষেক হওয়া এই ফুটবলার অসাধারণ দক্ষতায় জাতীয় দলের হয়ে ৫ গোল করেছেন মাত্র কয়েক ম্যাচে। আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশ দল জয় ও ড্র পেয়েছে তার এই গোলগুলোর মাধ্যমে। সেই মোরসালিন পেয়েছেন বিএসপিএ’র পপুলার চয়েস অ্যাওয়ার্ড। ক্রীড়াপ্রেমীদের ভোটে জয়ী হয়ে পুরস্কার পাওয়া শেখ মোরসালিন বলেন, ‘শান্ত-পিংকি-ইমরানুর এদেরকে পেছনে ফেলে এই পুরস্কার জেতায় একটু অবাকই হয়েছি। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ।
এসকল কৃতিত্ব বাদই দিলাম। বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা যে উড়িয়ে বিশ্ব মাতালেন ইমরান। সেই ইমরান কোথা থেকে আসলেন – কোথায় ই বা শুরু তা জানতে আগ্রহ অনেকের।
প্রসঙ্গমতে বলতে গেলে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু’র ভিন্ন ভিন্ন সময় ভিন্নতা থাকে। কখন যে বাংলার পতাকা উড়বে আকাশে তা খোজতে সেই বিলেত থেকে উড়িয়ে আনা ইমরানুর রহমান আজ বাংলাদেশের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ। এর পেছনে একমাত্র অবদান মন্টু’র। তিনি মাঝে মাঝে ভিন্নতা খোঁজেন। যার একমাত্র উদাহরণ ইমরানুর। যিনি বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন চ্যাম্পিয়নশীপে নিজেকে মেলে ধরেছেন। উল্লেখ্য গত ১৭ ই এপ্রিল বাংলাদেশের অনেক তারকা খেলোয়াড়দের পেছনে ফেলে মেরিল প্রথম আলো বর্ষসেরা ক্রীড়া পুরস্কার পান ইমরানুর।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু বলেন – আমি প্রতিভা খোঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। আমার কাজ লাল সবুজের পতাকাকে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে তুলে ধরা। ইমরানের মত আরও অনেকেই আছেন যারা সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত। তাদেরকে সুযোগ দিলে আশাকরি বাংলাদেশের ভেতর থেকে অনেক খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে। গত বছর বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে ওয়ালটন ‘শেখ কামাল আন্ত:স্কুল ও মাদ্রাসা অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৩’ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ
অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন এর উদ্যোগে বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় ১ লক্ষ টাকা ও জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ২ লক্ষ টাকা করে মোট ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের স্কুল – মাদ্রাসার ৩ লক্ষ্য ৫০ হাজার শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন – এখন আর আগের মত স্কুল – কলেজ পর্যায়ে দৌড় প্রতিযোগিতা কিংবা শারিরীক শিক্ষার খেলাগুলো কমে যাচ্ছে। আমাদেরকে এগুলোর প্রতি মনোযোগ দিলে আশাকরি অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন ভাল মানের খেলোয়াড় পাবে।



