‘হযরত বালাউটি ছাহেব রহ. অনেক স্থানে শিরক বিদআত দূর করতে ভূমিকা রাখেন’।
– হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড়ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী।
শাহ সূফী হযরত আল্লামা শুয়াইবুর রহমান বালাউটি ছাহেব রহ. এর বার্ষিক ঈসালে সাওয়াব মাহফিল গত ২৫ ডিসেম্বর (২০২২) রবিবার সিলেটের জকিগঞ্জে বালাউট ছাহেব বাড়ি সংলগ্ন মাঠে পরিপূর্ণ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রখ্যাত এ বুযুর্গের রুহানি দোয়া ও ফয়েজ প্রাপ্তির আশায় তাঁর মাজার প্রাঙ্গণে আল্লাহর দরবারে কয়েক হাজার ভক্ত মুরিদীন-মুহিব্বীন দফায় দফায় মোনাজাত করেন। এছাড়া তাঁর দরজা বুলন্দের কামনায় অশ্রুসিক্ত মোনাজাতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মাহফিলে মুরশিদে বরহক হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী প্রধান অতিথির নসিহতে বলেন, হযরত বালাউটি ছাহেব রহ. আমার ওয়ালিদ মুহতারামের বড় পেয়ারা খলিফা ছিলেন। বহু মানুষ তাঁর কাছ থেকে ফায়দা পেয়েছেন। কোনো কোনো জায়গায় শিরক বিদআতের আড্ডা ছিল, তিনি সেখানে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন তা পাক হয়ে গেছে। তিনি সারা জীবন বহু মানুষকে পথের দিশা দিয়েছেন এবং অনেক অন্ধকার হৃদয়ে নূরের বাতি জ্বালিয়েছেন।
মাহফিলকে কেন্দ্র করে পূর্বের দিন থেকে আসতে থাকেন অনেকেই। আল্লামা বালাউটি ছাহেব রহ. এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে শুরু হওয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব ও জিকির-আযকার পরিচালনা, নসিহত প্রদান ও আখেরী মোনাজাত করেন হযরত মাওলানা মুফতি উবায়দুর রহমান বড় ছাহেবজাদায়ে বালাউটি। খতমে কুরআন, খতমে বুখারী, খতমে দালাইলুল খাইরাত, খতমে খাজেগান ও মিলাদ-কিয়াম সম্পন্ন হয় মাহফিল উপলক্ষে। সকাল ৮ টা থেকে চলে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। দেশ ও বিদেশ থেকে আসা পীর-মাশায়িখ, উলামায়ে কেরামগণের ধারাবাহিক ওয়াজ নসিহত পরদিন ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। সার্বিক শৃঙ্খলায় নিয়োজিত ছিলেন কয়েকশত স্বেচ্ছাসেবী।
মাওলানা শাহ মো. মাহফুজুর রহমান বালাউটি, মাওলানা ডা.শাহ মো.ছাফিউর রহমান বালাউটি, মাওলানা ইউনুছ আহমদ, মাওলানা শাহ মিনহাজুর রহমান, মাওলানা শাহ মুনিবুর রহমান ও মাওলানা আজির উদ্দিন বরমচালী’র সঞ্চালনায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ভারতের ফুরফুরা দরবার শরীফের পীর হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ আজমত হুসাইন ছাহেব, ভারতের উজানডিহী দরবারের মেঝো ছাহেব সাইয়্যিদ আল হাবিব খালেদ আহমদ মাদানী আল হুসাইনী, আনজুমানে আল ইসলাহ’র মহাসচিব মাওলানা এ কে এম মনোওর আলী, ঢাকা মহানগর আল ইসলাহ’র সভাপতি মাওলানা মুফতি আবু নছর জিহাদী, বুরাইয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফারুকী, মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান ছাহেবজাদায়ে বালাউটি, ফান্দাউক দরবার শরীফের পীরজাদা মুফতি মাওলানা সাইয়্যিদ আবু বকর আল হুসাইনি, পীরজাদা মুফতি মাওলানা সাইয়্যিদ সালমান ফারসী আল হুসাইনি, মুফতি মাওলানা শাহ আলম জিহাদী, জকিগঞ্জ সিনিয়র মাদরাসার প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মশাহিদ আহমদ কামালী, বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মোহাম্মদ নজমুল হুদা খান, মুফতি মাওলানা মানজুর হুসাইন খন্দকার, মিয়ারবাজার আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মুক্তাদির খান, জকিগঞ্জ সিনিয়র মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা হুসাইন আহমদ, যুক্তরাজ্য উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আমিনুল ইসলাম, ছিলাউড়া আলিম মাদরাসার আরবী প্রভাষক মাওলানা আবু আইয়ুব আনসারী, মাওলানা এনামুল হক আজাদী, জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুস ছবুর, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মাহবুব আহমদ, মাওলানা কাজী আব্দুর রহমান চান্দগ্রামী, মাওলানা মারুফ আহমদ জুনেদ ছাহেবজাদায়ে রাঘবপুরী, মাওলানা কুতবুল আলম চান্দগ্রামী, মাওলানা আব্দুল আহাদ জিহাদী, মাওলানা আবুল কাশেম সিদ্দিকী, মাওলানা হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, মাওলানা জুবায়ের আহমদ ও মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী প্রমূখ।
বক্তাগণ বলেন, শাহ সূফী হযরত আল্লামা বালাউটি ছাহেব রহ. সুন্নতে নববীর হুবুহু আদর্শে জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। তিনি বিলাসিতামুক্ত অত্যন্ত সাদা-মাটা ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আল্লাহর হাবীবের আদর্শের পূর্ণ অনুসারী ছিলেন। তিনি জানতেন, বিশ্বনবীর আদর্শ বাদ দিয়ে অন্য কারো আদর্শ অনুসরণ করে জীবনে ও পরকালে সফল হওয়া যায় না। তাই তিনি এ আদর্শই সমাজের মাঝে প্রতিষ্ঠিত করতে সমস্ত জীবন ব্যয় করেছেন।
বিতর্কিত প্রণীত শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক সম্পর্কে বক্তাগণ বলেন, ওলী-আউলিয়ার মাধ্যমে এদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত ও সংরক্ষিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। ইসলাম বিরোধী কোনো ষড়যন্ত্র এদেশে কখনো টিকে থাকতে পারেনি। সেই ওলী-আউলিয়াগণের উত্তরসূরিরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবে।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বালাউট দারুল কোরআন মাদরাসা’র পরিচালক মাওলানা মো. মাহবুবুর রহমান বালাউটি,
মাওলানা ফারহান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী, হবিবপুর-কেশবপুর ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাকিম, মাওলানা খলিলুর রহমান চৌধুরী ছাহেবজাদায়ে শিঙ্গাইরকুড়ি, রাখালগঞ্জ ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শিহাব উদ্দিন আলীপুরী, কামালপুর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী হাফিজিয়া মাদরাসা’র প্রধান শিক্ষক হাফিয আব্দুল গনী, মাওলানা মহিউদ্দিন ছাহেবজাদায়ে গোটারগ্রামী, মাওলানা মাশুকুর রহমান বালাউটি, হাফিজ মাওলানা মোহাম্মদ ওলিউর রহমান বালাউটি, ইকড়ছই ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুল ইসলাম, জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ তাপাদার, উপাধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা আব্দুর রহমান, কাজলসার ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল আম্বিয়া, প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ বাহাদুর, প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, মানিককোনা সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসা’র সুপার মাওলানা মো. আব্দুশ শাকুর, সহকারী অধ্যাপক কবি শামছুল হক বিন আপ্তাব, কালিগঞ্জ বাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আজিজুর রহমান, মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী, মাওলানা নুরুল ইসলাম দরিয়াবাদী, মাওলানা শফিকুর রহমান মনসুরপুরী, প্রভাষক মাওলানা ইমদাদুর রহমান খান, প্রভাষক মাওলানা ফরিদ আহমদ, মাওলানা ফয়েজ আহমদ চৌধুরী, মাওলানা আব্দুল কাদির জিহাদী, মাওলানা শফিকুল ইসলাম জিহাদী, মাস্টার কামাল হোসেন উজ্জ্বল ও মাওলানা কবি মাহবুবুর রহীম প্রমুখ।
মাহফিলে কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন- হাফিজ হালিম আহমদ, মাওলানা ক্বারী মারুফ আহমদ, হাফিজ হুসাইন আহমদ, হামদ-নাত, ইসলামী সংগীত ও মর্সিয়া পরিবেশন করেন, রিসালাহ এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কবি মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল, কলরব’র সঙ্গীত শিল্পী গীতিকার আহমদ আবদুল্লাহ, হাফিজ মাওলানা মতিউর রহমান, মাহমুদ আব্দুল কাদির, আহমদুল হক, তাওহিদুল ইসলাম শ্রাবণ, আমামা টিভি’র কামরুল ইসলাম মুনীর ও ইমন আহমদ।



