সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পাঠানটিলা গ্রামের আলহাজ ইন্তাজির খানের ৩৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।
তাঁর ইসালে সওয়াব উপলক্ষে ফেঞ্চুগঞ্জ মোহাম্মদিয়া হিফজুল কুরআন মাদ্রাসায় আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন ফেঞ্চুগঞ্জ মোহাম্মদিয়া হিফজুল কুরআন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সেলিম। প্রধান অতিথি ছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ নুরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্তিত ছিলেন ওসমানী গবেষণা ইনস্টিটিউ এর চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক খান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সভাপতি ও দানারাম উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক মো:সাইফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের আয়োজনের শুরুতে মাদরাসার ছাত্র তানভীর আহমদ কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ আলহাজ ইন্তাজির খানের কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন। ফেঞ্চুগঞ্জ মোহাম্মদিয়া হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার সেক্রেটারি ইকবাল আহমদ খান শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। তিনি অনন্য গুণবান ইন্তাজির খানের বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে অগ্রনী ভূমিকা রাখার প্রশংসা করে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সভায় অতিথিদের মধ্যে আরো বক্তব্য প্রদান করেন, ফেঞ্চুগঞ্জ মোহাম্মদীয়া কামিল মাদ্রসার সহ-সভাপতি হাফিজ তরিকুল ইসলাম, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোওলানা হারুনুর রশিদ,অনুপম নিউজের সম্পাদক সরোয়ার চৌধুরী, মোহাম্মাদিয়া কামিল মাদ্রাসার বাংলা প্রভাষক আকরাম হোসেন, বিশিষ্ট শিক্ষাঅনুরাগী ও সমাজসেবক আমেরিকা প্রবাসী নাদির আহমদ খান, রাজনগর রাবেয়া জান্নাত মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মহিবুর রহমান রাফে, ফেঞ্চুগঞ্জ উত্তর কুশিয়ারা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর সহকারী শিক্ষক নিজাম উদ্দীন, কামিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক বশারত খান ও বিশিষ্ট শিক্ষক ও ব্যবসায়ী কাজী আবুল কাশেম জবুল প্রমুখ।
প্রধান অতিথি ফেঞ্চুগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ নুরুজ্জামান বলেন,আলহাজ ইন্তাজির খান একজন মহান শিক্ষাগুরু ছিলেন। শিক্ষাকে তিনি মানবতা ও সৌন্দর্যের ধারক হিসেবে মানতেন। তিনি জীবন চলার পথে তাঁর কথায় এবং কাজে এর প্রমান রেখে গেছেন। বিশেষ অতিথিরাও আলহাজ ইন্তাজির খানের অবদানের প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, শুধুমাত্র ফেঞ্চুগঞ্জের শিক্ষা প্রসারে আলহাজ ইন্তাজির খানের অবদান সীমাবদ্ধ থাকেনি পাশাপাশি অন্যান্য সামাজিক পরিসরেও তাঁর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা বন্ধ এবং নিয়োগ বৈষম্যের আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। পিপিএম হাই স্কুলের মাঠে আন্দোলনরত হাজার হাজার লোকের জনসভায় নেতৃত্ব দেন। যার ফলশ্রুতিতে সারকারখানা আজ স্থানীয় জনসাধারণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি ছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জের শালিসী ব্যক্তিগণের মধ্যমণি। তাঁর জীবদ্দশায় বড় এমন কোন শালিস বৈঠক নেই যার প্রধানের দায়িত্ব ঊনি পালন করেননি।
ষাট দশকের মাঝামাঝি সময়ে কাসিম আলী হাই স্কুলে পশ্চিম পাকিস্তানের এক প্রতিনিধি দল শিক্ষা সফরে এসেছিলেন ।সাথে ছিলেন লাহোর ইউনিভার্সিটির ভাইস চেনসেলার , স্কাউট এসোসিয়েশন এর প্রধান, আরো সাথে ছিলেন হাই স্কুল ও কলেজের শিক্ষা বোর্ডের প্রথম স্থান অধিকারী ছাত্র ছাত্রী।
উনারা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইউসুফ আলী চৌধুরী সাহেবের ঐতিহ্য্যবাহী কাজী বাড়ী ও পরিদর্শন করেন।
তার প্রচেষ্টায় ফেঞ্চুগঞ্জের কাসিম আলী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের Science Building থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের যাত্রা শুরু হয় । সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ,মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরীর পিতা অধ্যক্ষ ইয়াহয়া চৌধুরীকে সাথে নিয়ে অত্র সকুলেই কলেজ শুরু করেন। তা‘ছাডা উনার অনুরোধে কলেজে ইংরেজির অবৈতনিক প্রভাষক হিসেবেও অধ্যাপনা করেন ।বর্তমান জায়গায় কলেজ স্থানান্তরেও উনার অবদান ছিল। তিনি ছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা উদ্দ্যোক্তা সদস্য।
তাঁর কর্মজীবনে ফেঞ্চুগঞ্জ শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব অন্য কেউ পালন করেছেন বলে শোনা যায়নি। তৎকালীন ব্রিটিশ পরবর্তীতে ইস্ট পাকিস্তানে রিভার ভিউ নামে একটি অফিসার্স ক্লাব ছিল (বর্তমানে বিলুপ্ত)। দীর্ঘদিন তিনি ঐ ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব ও পালন করেন।
মানিকোনা হাই স্কুল, পিপিএম হাই স্কুল, ঘিলাছড়া হাই স্কুলসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সূচনালগ্নে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর উদ্যোগে কাসিম আলী হাই স্কুলের ফিল্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর পৈত্রিক ভূমি এবং নিকট আত্মীয়ের কাছ থেকে খরিদকৃত জায়গা নিয়ে স্কুলের নামে রেকর্ড করে গিয়েছেন। এই মহতি জনকল্যাণমূলক এবং উদারতার কাজগুলি ফেঞ্চুগঞ্জবাসীর জন্য চিরকাল গর্বের হয়ে থাকবে।প্রয়াত আলহাজ্ব ইন্তাজির খানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ সমাজের বিভিন্ন স্তরে উনার ছাত্র-ছাত্রীরা দেশে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত।
ফেঞ্চুগঞ্জের স্বনামধন্য
অপেক্ষাকৃত প্রাচীন প্রতিষ্টিত অনেক বিদ্যাপীঠের এই প্রতিষ্টাতা সদস্যকে তাঁর নানামুখী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ
‘মরণোত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ফাউন্ডেশন পদক’ প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সহ সভায় মেহমান ও এলাকার মুরব্বি কেরামদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন,হাফিজ আব্দুল খালিক,শাহাজান আহমদ,আরিফ আহমদ খান, লিপন আহমদ খান,শাহিন খান, সাদিকুর রহমান চৌধুরী, মোক্তাছিদ আহমদ খান, মুকিত খান,শিহাব উদ্দীন, তাহমীদ চৌধুরী, নিহাল খান সহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উপস্থিত ছিলেন মরহুম খান সাহেবের চতুর্থ ছেলে অত্র মাদ্রাসার ভূমিদাতা ফেঞ্চুগঞ্জ মোহাম্মদিয়া কামিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাও: মাহবুব আহমদ খান। উনার মাধ্যমে ইন্তাজির খান ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ মোহাম্মাদিয়া হিফজুল কুরআন মাদ্রাসার বার্ষিক উত্তীর্ণ বিভাগ ভিত্তিক মেধ



