দুই সাহেদে লড়াইয়ের আভাস
তৃণমূলের নেতৃত্বে দিশেহারা ধানের শীষের শকু
ম্যান্ডেলার চোখ বাগানে!
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার ২ আসনে (কুলাউড়া) জমে উঠতে দুই সাহেদের লড়াই। এর মধ্যে জামায়াত মনোনীত ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ আলী (দাড়িপাল্লা) পাশাপাশি সিলেটের আঞ্চলিক রাজনীতির বড় ফ্যক্টর আঞ্জুমানে আল ইসলাহ’র কাজী মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ (কাপ পিরিছ) পাশাপাশি বিএনপির শওকতুল ইসলাম শকু ধানের শীষ নিয়ে জিমিউর রহমান চৌধুরী ম্যান্ডেলা ঘোড়া প্রতীকে এবং সাবেক সাংসদ নবাব আলী আব্বাস ফুটবল প্রতীক নিয়ে মাঠ চষে রেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি জাতীয় পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি মনোনীত প্রার্থীও রয়েছেন।
কুলাউড়া উপজেলা নিয়ে এই আসনে কাজী মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ পূর্বে টানা দুইবার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও সর্বশেষ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিপুল ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
অন্যদিকে জামায়াতের ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ আলী পুরাতন রাজনীতিবিদ হওয়ায় তারও জনপ্রিয়তা ব্যাপক। পাশাপাশি ১০ দলীয় জোটের সমর্থন রয়েছে দাড়িপাল্লার এই প্রার্থীর উপর।
প্রতিদিন দাড়িপাল্লা- কাপ পিরিচ শ্লোগানে মুখরিত হয় কুলাউড়ার জনপদ। সর্বশেষ ব্রাহ্মণবাজারে একই দিনে দাড়িপাল্লা ও কাপ পিরিচ প্রতীকের শুভেচ্ছা মিছিলে সমান সংখ্যক লোক সমাগম হয়। এতে প্রায় নিশ্চিত হওয়া চলে দুই সাহেদের মধ্যেই মূল লড়াইয়ের আভাস।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ নিয়ে শওকতুল ইসলাম শকু ও মনোনয়ন প্রত্যাশিত ছিলেন সাবেক সাংসদ এডভোকেট আবেদ রাজা। যার কারণে সেখানে দিন দিন তৃণমূলে চলছে কাড়াকাড়ি। কর্মীদের তেমন প্রচার প্রচারণা লক্ষ করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলার বিএনপির একাধিক নেতারা বলছেন আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। ফলাফলের দিন বোঝা যাবে ধানের শীষ কতটা এগিয়ে ছিল।
জিমিউর রহমান চৌধুরী ম্যান্ডেলা ঘোড়া প্রতীকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কুলাউড়ার এদিক সেদিন। তারও ভোটব্যাংক কম নয়। কুলাউড়া উপজেলার মধ্যে চা বাগানের শ্রমিকদের ভোটে নজর বেশি সভার। এদিকে এগিয়ে রয়েছেন ম্যান্ডেলা। যিনি পূর্বে কুলাউড়া উপজেলার পৃত্থীমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন।
সর্বশেষ সূত্রে জানা গেছে মৌলভীবাজার দুই আসনে ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ আলী (দাড়িপাল্লা) মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ (কাপ পিরিচ) প্রতীকেরই কর্মী বেশি এবং দুজনের মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে।
অন্যদিকে নিরবে রয়েছে ধানের শীষের শওকতুল ইসলাম শকুর প্রচারণা। পাশাপাশি নিয়মিত গণসংযোগ করছেন এডভোকেট নবাব আলী আব্বাস ও জিমিউর রহমান চৌধুরী ম্যান্ডেলা।
কুলাউড়া উপজেলার ভোটার সংখ্যা সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়েছে, তবে ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২,৪১,১৬৯ জন ভোটার ছিল এবং ২০২৩-২৪ সালের হালনাগাদের পর এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ৪ লাখের বেশি জনসংখ্যা ছিল।
এবারের নির্বাচন প্রসঙ্গে সাহেদ খান বলেন- আমি শতভাগ আশাবাদী নির্বাচন সুঠু হলে বিজয়ী হব। এ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকুও আলোচনায় রয়েছেন।
ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ আলী বলেন – আমাদের জোট অত্যন্ত শক্তিশালী পাশাপাশি আমাদের আমিরের জন্মস্থান এই কুলাউড়া। এখানে দাড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত।



