দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এতে বলা হয়েছে আগামী ৭ জানুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে নির্বাচন কে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর দিকে থাকবে সাধারণ মানুষের নজর। কারণ দলীয় প্রতীক ই হচ্ছে একটি দলের মাপকাঠি। আর সেই প্রতীক কাকে দেওয়া হবে তাকে নিয়ে একটু বেশিই আগ্রহ থাকে সবসময়।
ইতমধ্যে দলগুলো তাদের মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছেন। এখন যাছাই বাছাই এর পালা।
সিলেট ৩ আসন কে একটি আধুনিক ও স্মার্ট আসন উপহার দিতে চান আব্দুর রকিব মন্টু। সেই প্রত্যাশায় তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। এবার কি তবে প্রত্যাশা পূরণ হতে চলেছে। নেতাকর্মীদের উচ্ছাসে প্রায়শই মনে হয় মন্টুই নৌকার মাঝি।
বাংলাদেশের প্রচলিত নির্বাচন প্রসঙ্গে বলতে গেলে বলতে হবে সিলেট থেকেই নির্বাচন শুরু করে সকল দল। কেননা পুণ্যভূমি সিলেটে শায়িত আছেন হযরত শাহজালাল র. সহ অনেক ওলী আউলিয়া। যে কারণে সিলেট থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে সকল দল।
এবারের নির্বাচনে সিলেটের উল্লেখযোগ্য আসনের মধ্যে অন্যতম একটি আসন হচ্ছে সিলেট -৩। কেননা এই আসনে রয়েছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ সারকারখানা – পাশাপাশি বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং বিশেষ কিছু অর্থনৈতিক অঞ্চল। যার কারণে এই আসনের দিকে বাড়তি নজর থাকে সবার।
এবারের ২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন – বর্তমান সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুর রকিব মন্টু, বিএমএইচ এর মহাসচিব ও আওয়ামী লীগ নেতা ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, মুহাম্মদ মুনির হোসাইন, মতিউর রহমান শাহীন , সহ প্রায় ডজন খানেক মনোনয়ন প্রত্যাশী।
তবে সিলেট ৩ আসন থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের তেমন কেউ নেই বলে দাবি সকল প্রার্থীদের। তাদের কথা দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তাতে তারা সন্তুষ্ট।
হাবিবুর রহমান হাবিব
নানা তর্ক বিতর্ক তাকে ঘিরে। কিছুদিন পূর্বে সংসদে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কথা বলায় অনেক জায়গায় সমালোচনার মুখোমুখি চিনি। ফের নির্বাচন কে সামনে রেখে কোন চিন্তাই যেন নেই তার। থাকবেই না কেন? তিনিতো সংসদ সদস্য আছেন। তার প্রত্যাশা তার উপরেই দল আবারও সিলেট ৩ আসনে আস্থা রাখবে।
আব্দুর রকিব মন্টু
চারবার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল তাকে সেই সুযোগ দেয়নি। এবার সুযোগ চান তিনি কিছু করে দেখাবার। এজন্য উন্নয়ন সমাবেশ – উঠান বৈঠক করে তিনিও আলোচনায় রয়েছেন। তার উদ্দেশ্য শিল্পাঞ্চলকে যথাযথ কাজে লাগানো। তাতেই মিলবে সুফল। সেই অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তিনি।তাইতো মনোনয়ন কিনে জমা দিলে বুক ভরা প্রত্যাশা রেখে।
ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল
হঠাৎ আগমন জনগণের সামনে। কিন্তু না, তার ভাই ও ছিলেন এই আসনের প্রয়াত সাংসদ। গ্রামীণ জনপদের স্বাস্থ্যসেবা এবং উন্নয়ন নিয়ে মাঠে ঘুরছেন ডা. দুলাল। তার প্রত্যাশা শেখ হাসিনা তাকে মনোনয়ন দেবেন গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য। তার সাথে আবার রয়েছেন প্রয়াত সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী’’র সকল নেতাকর্মী। এইদিক থেকে তার পাল্লা অনেকটা ভারী।
হঠাৎ আগমন জনগণের সামনে। কিন্তু না, তার ভাই ও ছিলেন এই আসনের প্রয়াত সাংসদ। গ্রামীণ জনপদের স্বাস্থ্যসেবা এবং উন্নয়ন নিয়ে মাঠে ঘুরছেন ডা. দুলাল। তার প্রত্যাশা শেখ হাসিনা তাকে মনোনয়ন দেবেন গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য।
মুহাম্মদ মুনির হোসাইন
তরুণ প্রজন্মের একজন রাজনীতিবিদ মুহাম্মদ মুনির হোসাইন । যদিও তিনি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাথে কাজ করছেন সেই সুবাদে তিনিও মনোনয়ন চেয়েছেন । কারণ তারও জনপ্রিয়তা আছে অন্যদের মত। এখন অপেক্ষার পালা দল কি সিদ্ধান্ত দেয়! অপেক্ষা করতে হবে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ঐদিন প্রতীক বরাদ্দ হবে।
সিলেট ৩ আসনে নৌকা প্রতীক প্রত্যাশী হিসেবে আরও আছেন – শমসের জামাল, মতিউর রহমান শাহীন, সহ আরও অনেকে।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক খুজবেন জোটের প্রতীক। কারণ তার লাঙ্গলের দ্বার কিছুটা কমে এসেছে গত উপ-নির্বাচনে। সে কারণেই এই আসতে এত চমকের আশা।
উল্লেখ্য এবারের নির্বাচনে যদি জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সাথে জোটবদ্ধ হয় তবে সিলেট ৩ আসনে বিকল্প পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে।



